কক্সবাজারের টেকনাফে টানা বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সীমান্তবর্তী এলাকার ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধীন হোয়াইক্যং বিওপির আওতাধীন কোনাপাড়া গ্রামে এসব ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
উখিয়া ব্যাটালিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ।
ত্রাণ বিতরণকালে মহিউদ্দীন বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় সীমান্তবর্তী এলাকার অনেক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্যোগের এই সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অংশ হিসেবে বিজিবির পক্ষ থেকে ২০০ পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকাও বিজিবির দায়িত্বের অংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সীমান্তের মানুষ বিজিবির ওপর আস্থা রাখে এবং বিভিন্ন কাজে বিজিবিকে সহযোগিতা করে। তাদের দুর্দিনে পাশে দাঁড়ানো বিজিবির মানবিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও সীমান্তবর্তী অসহায় ও দুর্যোগকবলিত মানুষের পাশে বিজিবির এ ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া কক্সবাজার জেলায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো চিহ্নিত করে পর্যায়ক্রমে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
বন্যায় ঘরবাড়ি ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সীমান্তবর্তী অনেক পরিবার দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবির দেওয়া ত্রাণসামগ্রী বন্যার্ত পরিবারগুলোর তাৎক্ষণিক প্রয়োজন মেটাতে সহায়ক হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে উখিয়া ব্যাটালিয়নের (৬৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম, উপ-অধিনায়ক মেজর ইশতিয়াক আহমেদ, ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার ও সহকারী পরিচালক মো. মাসুদ রানা উপস্থিত ছিলেন।
বিজিবি জানিয়েছে, কক্সবাজার রিজিয়নের রামু সেক্টরের অধীন উখিয়া ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তবর্তী জনপদে বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। দুর্যোগ ও সংকটের সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সীমান্তবর্তী জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করার এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।


