জুলাই সনদে স্বাক্ষরকারীরা জনগণ এবং গণঅভ্যুত্থান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর না করায় এনসিপি রাজনীতি থেকে বাদ পড়েনি, বরং যারা সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, তারাই জনগণ ও গণঅভ্যুত্থান থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করেছেন।
শনিবার দুপুরে বাংলামোটরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদে স্বাক্ষর একটি আনুষ্ঠানিকতা ছাড়া কিছু নয়। এটি জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও দাবির প্রতিফলন ঘটাতে ব্যর্থ হয়েছে। কোনো আইনি ভিত্তি ছাড়া যা জনগণের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা।’
সনদে স্বাক্ষরকারীদের প্রতি কোনও আপত্তি নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা এটি আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে করেছে। তবে আমরা এখন দাবি জানাচ্ছি, এটি যেন যথাযথ আইনি ভিত্তি পায়।’
তিনি অভিযোগ করেন, ‘সাবেক ফ্যাসিস্ট কাঠামোর সুবিধাভোগীরা রাজনৈতিক আপসের মাধ্যমে পুরনো ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।’
‘এনসিপি কোনও আপস করেনি; বরং জনগণের পাশেই থেকেছে,’ যোগ করেন তিনি।
এ সময় তিনি বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ‘জুলাই যোদ্ধারা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট’ বক্তব্যের নিন্দা জানান এবং তাকে তার বক্তব্য প্রত্যাহার করে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান করেন।
সেখানে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, সনদে স্বাক্ষর না করার সিদ্ধান্তটি মূলত সনদের আইনি বৈধতা ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ না থাকার কারণে নেওয়া হয়েছে।
‘সরকার ও কমিশন সনদের আইনি অবস্থান স্পষ্ট করেনি, এমনকি বাস্তবায়ন আদেশের খসড়াটিও প্রকাশ করেনি। এই স্বচ্ছতার অভাবই আমাদের সনদে স্বাক্ষর না করার কারণ,’ যোগ করেন তিনি।
এনসিপি নেতাদের মতে, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে (এনসিসি) প্রাথমিক আলোচনায় সব বড় রাজনৈতিক দলই সম্মত হয়েছিল যে সনদকে আইনি বাধ্যবাধকতা দিতে হবে এবং প্রস্তাবিত কাঠামোগত সংস্কারগুলি গণভোটের মাধ্যমে পরবর্তী সংসদে কার্যকর করতে হবে। কিন্তু এই ধারাগুলি চূড়ান্ত সনদ থেকে বাদ পড়েছে।
এনসিপি অভিযোগ করেছে, সরকার জাতিকে বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে অন্ধকারে রেখেছে এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, আইনগত ভিত্তি ছাড়া এই সনদ ভবিষ্যতে সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক হিসেবে আদালতে চ্যালেঞ্জ হয়ে বাতিল হতে পারে।
এ সময় শুক্রবার সনদে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আহত জুলাই অভ্যুত্থান যোদ্ধাদের ওপর হামলা ও শহীদ পরিবারের প্রতি যে অবমাননা দেখানো হয়েছে, সেটির নিন্দা জানিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও বিচার দাবি করে তারা।
সনদ বয়কট করার পরেও, এনসিপি জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে যাতে সনদটি যথাযথ আইনগত ও সাংবিধানিক স্বীকৃতি পায়।


