পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের মদদ ও পৃষ্ঠপোষকতায় গুম এবং হত্যার ঘটনায় চাকরিচ্যুত জিয়াউল আহসানের মহাকাব্যিক ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।
তিনি বলেন, জিয়াউলের অপরাধ কল্পনার চেয়েও বেশি। তার সব অপরাধের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে যা পাওয়া গেছে, শাস্তির জন্য এটাই যথেষ্ট। এ জন্য অন্য মামলায় না জড়িয়ে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ অভিযোগ গঠনের সপক্ষে তাজুল ইসলাম এসব কথা বলেন। প্রসিকিউশনের শুনানি শেষে আসামিপক্ষের শুনানির জন্য ৮ জানুয়ারি দিন ধার্য করা হয়েছে।
তাজুল ইসলাম বলেন, পরিবার জানে না, গুমের শিকার লোকটি বেঁচে আছে না মারা গেছে। সন্তানের শিশুকালে বাবা গুম হয়েছে, সেই সন্তান আজ যৌবনপ্রাপ্ত হয়েছেন, কিন্তু বাবা এখনো ফিরে আসেননি। এ ধরনের অপরাধের বিচার না হলে মানবতা মুখ থুবড়ে পড়বে। চিফ প্রসিকিউটর আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অংশবিশেষ আদালতে পড়ে শোনান।
এর আগে ২৩ ডিসেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৪ জানুয়ারি দিন ধার্য করে আদালত। সেই অনুযায়ী রোববার অভিযোগ গঠনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এই মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী নাজনীন নাহার।
এর আগে, ১৭ ডিসেম্বর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউশনের মতে, ২০০৯-২০১৬ সময় জিয়াউল আহসান র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং এডিজি (অপারেশনস) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এ সময়ে অসংখ্য বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে তিনি সরাসরি অংশগ্রহণ করেন, অগণিত হত্যাকাণ্ড, গুমসহ অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধে তার সরাসরি নির্দেশ, অনুমোদনক্রমে, জ্ঞাতসারে তার বিশ্বস্ত র্যাব সদস্যরা সংঘটন করতেন।


