পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গুমের একটি আলোচিত মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণ রোববার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে ১৪ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ অভিযোগ গঠন করে উদ্বোধনী বক্তব্য ও সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করে। অভিযোগগুলোতে ১০৪ জনকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আদেশের মধ্য দিয়ে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়। জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর আদালত প্রসিকিউশনের আনা তিনটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেয়। অভিযোগে বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় সংঘটিত গুম ও হত্যাকাণ্ডে জিয়াউল আহসানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল।
প্রসিকিউশনের দাবি অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি র্যাবের গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালক এবং অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অপারেশনস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ সময় তিনি বলপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেন এবং তার নির্দেশ ও অনুমোদনে র্যাবের সদস্যরা এসব অপরাধ সংঘটিত করে।
প্রসিকিউশন সূত্রগুলোর ভাষ্য, ২০০৯ সালে সেনাবাহিনীর মেজর হিসেবে র্যাবে পদায়নের পর জিয়াউল আহসান দ্রুত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হয়ে ওঠেন। এর ফলে ২০২৪ সালে চাকরিচ্যুতির আগ পর্যন্ত তাকে আর কখনো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ফিরে যেতে হয়নি। পুরো সময়জুড়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন বাহিনী ও সংস্থায় দায়িত্ব পালন করেন।
প্রসিকিউশনের আরও দাবি, প্রয়োজনীয় কোর্স, প্রশিক্ষণ কিংবা কোনো ব্যাটালিয়ন বা ব্রিগেড কমান্ডের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি মেজর জেনারেল পদে পদোন্নতি পান, যা সেনাবাহিনীর পেশাদার ইতিহাসে নজিরবিহীন।


