ঢামেকে নার্স ও ফার্মাসিস্টদের ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ হুঁশিয়ারি

ঢামেকে নার্স ও ফার্মাসিস্টদের ‘কমপ্লিট শাটডাউনের’ হুঁশিয়ারি
চাকরিতে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে কর্মবিরতি পালন করেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) দুই ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করেছেন মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা। চাকরিতে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে রোববার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এই কর্মবিরতি পালিত হয়।

আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এ দাবি না মানা হলে আগামী ৩ ডিসেম্বর অর্ধদিবস (সকাল ৮টা থেকে ১২টা) এবং ৪ ডিসেম্বর থেকে হাসপাতালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালনের হুঁশিয়ারিও দেন বিক্ষুব্ধরা।

একইদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আট দফা দাবিতে প্রতীকী শাটডাউন কর্মসূচি পালন করেন নার্সরা। জাতীয় নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের ব্যানারে কয়েক শত নার্স হাসপাতালের প্রশাসনিক গেটে জড়ো হন।

নার্স ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতিতে ঢামেকে চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগী ভোগান্তিতে পড়েন। জরুরি বিভাগে স্বল্প পরিসরে রোগীদের সেবা দিতে দেখা যায়।

কর্মবিরতি শেষে বাংলাদেশ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি খাজা মাঈন উদ্দিন মঞ্জু জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেড বাস্তবায়নের ফাইলটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে আন্দোলন, সংগ্রাম, দাপ্তরিক চিঠি–চালাচালি এবং জনপ্রশাসন বিধি শাখার সব চাহিদা পূরণ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও নানাবিধ উদ্দেশে মন্ত্রণালয় অবিরতভাবে কোয়াবি দিয়ে সময়ক্ষেপণ ও জটিলতা তৈরি করছে।’

খাজা মাঈন জানান, এর আগে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদরা ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত হয়েছেন। কাজেই মেডিকেল টেকনোলজিস্টরাও চাকরিতে উন্নত গ্রেড পাওয়ার অধিকার রাখেন।

আরও পড়ুন

কর্মবিরতি
মৌলভীবাজারে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট ও নার্সদের কর্মবিরতি। ছবি: টাইমস

এদিকে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার আশ্বাসের পরও দীর্ঘ ১৪ মাসেও নার্সিং ও মিডওয়াইফারি পেশাগত সংস্কার এবং বিদ্যমান বৈষম্য নিরসনের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর বিলুপ্ত করে অন্য অধিদপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার অপচেষ্টার প্রতিবাদে নার্সরা কর্মবিরতি পালন করেন।

এ সময় ১ ডিসেম্বরের মধ্যে দাবি না মানা হলে ২ ডিসেম্বর সকাল ১০টা থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালনের ঘোষণা দেন তারা।

নার্সদের আট দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- নার্সিং জনবল কাঠামোর স্বচ্ছ পুনর্বিন্যাস,পদোন্নতি ও বেতন গ্রেড উন্নীতকরণ,নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ, নার্সদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ ও স্কিল ডেভেলপমেন্ট সুবিধা, কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধ কাঠামো শক্তিশালী করা এবং আধুনিক নার্সিং অবকাঠামো স্থাপনসহ অন্যান্য দাবি।

এ ছাড়া মেহেরপুর, সিরাজগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও শরীয়তপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীতকরণের দাবিতে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা কর্মবিরতি পালন করেন। একই সঙ্গে নার্সরা আট দফা দাবিতে প্রতীকী ‘শাট ডাউন কর্মবিরতি পালন করেন।

কর্মবিরতিতে ঢামেকে রোগীদের ভোগান্তি

ঢামেকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টদের কর্মবিরতি ভোগান্তিতে রোগীরা। ছবি: টাইমস

রোববার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের জরুরি বিভাগের এক্স-রে ও সিটি স্ক্যান কক্ষে স্বল্প পরিসরে কার্যক্রম চলছে। বহির্বিভাগের রেডিওলোজি বিভাগ এ সময় বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া, বন্ধ ছিল রোগীদের বিনামূল্যে দেওয়া ওষুধ সরবরাহ ভবনের (মেডিসিন স্টোর) গেট। সেখানেই রোগীদের সবচেয়ে বেশি ভিড় দেখা যায়।

মেডিসিন স্টোরে অপেক্ষমান নাসিমা আক্তার (৪৫) জানান, তিনি সকাল ৯টায় চিকিৎসক দেখিয়েছেন। চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নেওয়ার জন্য দেড় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তিনি কোনো ওষুধ পাননি।

বহির্বিভাগের রেডিওলোজি বিভাগের বারান্দায় ফ্লোরে আশ্রয় নেওয়া রোগী ফোরকান উদ্দিনের ছেলে মো. আসলাম বলেন, ‘বাবাকে ভর্তি করার পর চিকিৎসকের পরামর্শে সকাল ৭টার দিকে এক্স-রে করতে নিয়ে এসেছি। কিন্তু সকাল থেকে কাউকে পাচ্ছি না। রুম কখন খুলবে তাও জানি না।’

জামাল উদ্দিন নামে এক রোগী বলেন, ‘সকাল ৮টায় হাসপাতালে এসে ডাক্তার দেখিয়েছি। কিন্তু এক্স-রে করতে এসে দেখি সব বন্ধ। পরে জানতে পারলাম দায়িত্বে থাকা কর্মীরা আন্দোলন করছেন। কখন পরীক্ষা করব, ডাক্তার দেখাব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

হাসপাতাল জুড়ে এমন আরও বহু রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad