বাংলাদেশের অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর–পাহাড়ি, দলিত, হরিজন ও চা-শ্রমিক–অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ‘জাত-পাত বিলোপ জোট’ নামে একটি নতুন সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে।
শনিবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই জোট আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পথিক বাদল, সঞ্চালনা করেন সুরেশ বাশফোর এবং জাত-পাত বিলোপ জোট গঠনের উদ্দেশ্য ও দাবিগুলো উপস্থাপন করেন উৎপল বিশ্বাস।
জোটটির প্রধান দাবি, অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা এবং তাদের সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।
দাবির তালিকায় প্রথমেই তারা উল্লেখ করেন, বৈষম্য বিলোপ কমিশন গঠন ও বৈষম্য বিলোপ আইন দ্রুত পাস করার দাবি। পাশাপাশি পাহাড়ি, দলিত, হরিজন ও চা-শ্রমিকদের ভূমির অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
তারা আরও দাবি করেন, দৈনিক ভিত্তিতে নিযুক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও চা-শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮০০ টাকা নির্ধারণ করতে হবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীগুলোর নাম সংবিধানের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা, তাদের শিক্ষার উন্নয়নে প্রতি বছর ১০ কোটি টাকার বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা এবং উচ্চশিক্ষা ও সরকারি চাকরিতে ৬ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়।
এ ছাড়া তারা জাতীয় সংসদ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভায় দলিত ও হরিজন জনগোষ্ঠীর জন্য আসন সংরক্ষণের দাবি জানান। জোটের নেতারা বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর নয়, বরং সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে সঙ্গে নিয়েই হতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দিদার ভুইয়া, বাংলাদেশ নারী মুক্তি কেন্দ্রের সীমা দত্ত এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহিল কাফি রতন।
সম্মেলনের শেষে জোটের গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং আগামী ছয় মাসের জন্য পথিক বাদলকে আহ্বায়ক নির্বাচিত করা হয়।


