জনসমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য হীন অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন জামায়াতের এই নেতা।
মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের প্রার্থীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, জনসমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে হীন অপপ্রচার ও নাটক সাজানো হচ্ছে। গতকাল মৌলিবাজার-১ আসনে জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমানসহ দায়িত্বশীলরা যখন কাজ শেষে বাসায় ফিরছিলেন, তখন সন্ত্রাসীরা হামলা করেছে। মৌলিবাজার-৩ আসনে এর ঠিক আগের দিন এই ধরনের সন্ত্রাসী হামলা হয়েছে।’
মাইকিং করে জনমনে একটা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোকে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, যা একটি সুষ্ঠু সুন্দর নির্বাচনের জন্য মারাত্মক ধরনের অন্তরায় বলে মনে করেন জামায়াতের এই নেতা।
তিনি বলেন, ‘ফরিদপুর-২ আসনে আমাদের নির্বাচনের এজেন্টদের উপর হামলা করা হয়েছে, আঘাত করা হয়েছে। একই ঘটনা ঘটেছে মানিকগঞ্জ, নেত্রকোনা, বরিশাল ও পটুয়াখালীতে। হামলা হচ্ছে, আঘাত করা হচ্ছে, ক্ষতিগ্রস্ত করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি ঢাকা-১৫ আসনে গতকাল রাতে আমাদের ১২টি নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একদম টোটালি ডেস্ট্রয় করে ফেলেছে। আমরা নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) কথাগুলো বলেছি, ঢাকা শহরে এভাবে যদি নির্বাচনী ক্যাম্প ভাংচুর হয় তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রেসপন্সিবিলিটি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেবে। আমরা তাদেরকে বলেছি এই সমস্ত বিষয় কোয়ারি করে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য।’
‘আমাদের জেলা পর্যায়ে একজন দায়িত্বশীল ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সৈয়দপুর এয়ারপোর্টে যাওয়ার পর সেখানে একটা নাটক সাজানো হয়েছে। এর অর্থ, একদল লোক মনে করছেন জনগণের সমর্থন তাদের প্রতি নেই। তারাই এখন ছলে-বলে-কৌশলে আমাদেরকে জনগণের সামনে ভিন্নরূপে উপস্থাপনের জন্যে আমাদের মর্যাদাকে, দলের মর্যাদাকে, আমাদের সম্মান ইজ্জত ও জনসমর্থনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য একটা হীন অপপ্রচার চালাচ্ছেন। একটা ঘৃনীত অপপ্রয়াস চালাচ্ছেন,’ যোগ করেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।
এ সময় এ ধরনের মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে জামায়াতের সম্মান মর্যাদাকে নষ্ট করার জন্য যারাই অপপ্রয়াস চালাবেন জনগণ তাদেরকেই রুখে দেবেন বলে হুঁশিয়ার করেন তিনি।
মাহবুব জুবায়ের বলেন, ‘আমরা ইসিকে বলেছি এই সমস্ত বিষয়ে আপনাদের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। এই ধরনের ঘটনা এবং উস্কানির কারণে বিভিন্ন জায়গাতে হামলা হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গাতে দুর্ঘটনা ঘটছে। তাদের নেতাকর্মীরা উৎসাহ পাচ্ছেন আমাদের নেতাদের উপর হামলা করতে।’
ইসির সদস্যরা আমাদের বলেছেন, তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, খোঁজখবর নিয়ে যথাযথ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জাতি যাতে একটি সুন্দর, উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচনে অংশ নিতে পারে তাই শুধু কথা না বলে ইসিকে মাঠেও কার্যকর ভূমিকা পালনের অনুরোধ জানান তিনি।
বডি-অন ক্যামেরা নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর এই সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘কিছু আসনে অস্বাভাবিকভাবে বডি-অন ক্যামেরা বেশি রাখা হয়েছে। কিছু আসনে অস্বাভাবিক কম রাখা হয়েছে। আমাদের কাছে মনে হচ্ছে বিশেষ কোনো দলকে সুবিধা দেওয়ার জন্য এমন রাখা হয়েছে।’
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, কোনো তথ্য যাতে অপতথ্যে রূপ না নেয়। আমাদেরকে এমনভাবে যাতে কোনো মিডিয়ার মুখোমুখি করা না হয়, যেটা আসলে সত্য নয়। সন্ত্রাসী-চক্রান্তকারীরা অতীতেও পার পায় নি, এখনো পাবে না। ভবিষ্যতেও তারা পার পাবে না।’
এ সময় সব চক্রান্ত এবং ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থেকে সবকিছু প্রতিরোধ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন জুবায়ের।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলব। প্রতিটা সেন্টারে ইনশাল্লাহ প্রতিরোধ হবে, গণপ্রতিরোধ হবে। কোন অবস্থাতেই আমরা মাঠ ছাড়বো না। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করে সুষ্ঠু, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেব।’


