অপরাজিত থেকে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার পর মরক্কোর কোচ মোহাম্মদ ওয়াহবি বিশ্বাস করেন, প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের সব ধরনের সক্ষমতা তার দলের রয়েছে।
গত বুধবার দুবার পিছিয়ে পড়েও হাইতিকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে মরক্কো। গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিলের সমান পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে তারা।
আগামী সোমবার মনটেরিতে রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে নেদারল্যান্ডস, জাপান অথবা সুইডেনের মুখোমুখি হবে ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’রা।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে পৌঁছে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। কোচ ওয়াহবি এখন বিশ্বাস করেন, তার দল এবার আরও উঁচুতে লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘মরক্কো এখন সম্পূর্ণ নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে গেছে। খেলোয়াড় ও সমর্থকেরা দলকে বিশ্বাস করে এবং প্রতিপক্ষ দলগুলোও আমাদের সম্মান করে।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমাদের এই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের (বিশ্বকাপ জয়) ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। আমাদের নিজেদের উজাড় করে দিতে হবে, প্রতিপক্ষকে সম্মান করতে হবে এবং এই উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকতে হবে। আমি আমার ও আমার স্টাফদের কাজের ওপর গভীর আস্থা রাখি। সেরা দেশ হওয়ার সব উপকরণ আমাদের আছে।’
পরের রাউন্ডে মরক্কোর প্রতিপক্ষ হিসেবে নেদারল্যান্ডসে মাঠে নামার সম্ভাবনাই এখন সবচেয়ে বেশি। গোল ব্যবধানে জাপানের চেয়ে এগিয়ে থেকে বর্তমানে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে রয়েছে ডাচরা। বৃহস্পতিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে তারা ইতিমধ্যে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়া তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে।
প্রতিপক্ষ নিয়ে ওয়াহবি বলেন, ‘আমার আলাদা কোনো পছন্দ নেই, আগামীকালই দেখা যাবে আমরা কার বিপক্ষে খেলব। আমরা একই লক্ষ্য ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই ম্যাচটি খেলব।’
অন্য দিকে কোনো পয়েন্ট না পেয়ে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করলেও, ১৯৭৪ সালের পর নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপ উপস্থিতিতে বেশ নজর কেড়েছে হাইতি।
ইয়াসিন বুনুর আত্মঘাতী গোল এবং উইলসন ইসিদোরের এক চমৎকার শটে ৫২ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলের দেখা পায় হাইতি। মরক্কো ঘুরে দাঁড়ানোর আগে ম্যাচে দুবার লিড নিয়েছিল তারা।
হারলেও নিজের খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেছেন হাইতির কোচ সেবাস্তিয়ান মিগনে।
মিগনে বলেন, ‘ফলাফলে আমি হতাশ, তবে আমার মনে হয়নি যে খেলোয়াড়েরা হাল ছেড়ে দিয়েছিল। তারা হাইতির মানুষের সেই অপরাজেয় রূপটিই মাঠে ফুটিয়ে তুলেছে, যারা কখনো হার মানে না। এই দল অত্যন্ত মর্যাদার সঙ্গে হাইতির প্রতিনিধিত্ব করেছে।’


