চুয়াডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬

চুয়াডাঙ্গায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ৬
Advertisement
Advertisement

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনার মামলায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার বিকাল ৪টায় জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে বিষয়টি জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান। এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে ভুক্তভোগী ওই নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ধর্ষণ করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন- চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম, শাহজাহান এবং শিয়ালমারি গ্রামের আব্দুস সালাম।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর থানার বাসিন্দা ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০)। পূর্ব পরিচয়ের সূত্র ধরে গত ২৫ মার্চ কবিতা ভুক্তভোগীকে কৌশলে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করেন কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। সালাম আরেকটি ইজিবাইক নিয়ে এলে কবিতা ভুক্তভোগীকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন। পরে তারা আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছে ইজিবাইক চালককে ভাড়া দিয়ে বিদায় করে দেন। এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ভুক্তভোগীকে পাশের এক আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ভুক্তভোগীকে ধর্ষণ করেন। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়া হয়।

ওই রাতেই কবিতা ও ভুক্তভোগীকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দিয়ে যায় আসামিরা। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তার স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর তিনি বাদী হয়ে সকালে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে শুক্রবার দুপুরে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ‘ভুক্তভোগী অভিযোগ দায়ের করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিই। দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ছয় আসামির সবাইকেই গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad