স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশ বাতিলসহ ছয় দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে রোববার (৭ জুন) সকাল ৮টা থেকে এ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে। শনিবার (৬ জুন) রাতে সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক ডা. মো. ইরফানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মবিরতির পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রধান ফটকে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি নোটিশকে কেন্দ্র করে চিকিৎসকদের প্রতি ‘বৈষম্য ও অন্যায়’এর অভিযোগ তুলে গত ৩ জুন থেকে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো চমেক হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরাও আন্দোলনে নামেন।
পরে ৪ জুন হাসপাতালের প্রধান ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন তারা। কর্মসূচি শেষে হাসপাতালের পরিচালকের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপিও দেওয়া হয়। একইসঙ্গে দাবি বাস্তবায়নের জন্য শুক্রবার রাত পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল।
তবে দাবি পূরণে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় শনিবার (৬ জুন) দ্বিতীয় দিনের মতো হাসপাতালের প্রধান ফটকে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এর ধারাবাহিকতায় রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়।
ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ কর্তৃক ১৯ মে গৃহীত এফসিপিএস ট্রেনিং সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বাতিল, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষায় ‘স্বাস্থ্যকর্মী নিরাপত্তা আইন’ প্রণয়ন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মাসিক ভাতা ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, বেসরকারি ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীতকরণ, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩৪ বছর নির্ধারণ এবং বিএমডিসি ২০২৫ অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করে ভুয়া চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ।


