চট্টগ্রামে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবায় চালু হয়েছে এক ব্যতিক্রম কর্মসূচি। যেখানে প্লাস্টিক বা বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে স্বাস্থ্যসেবা। অর্থাৎ অর্থের বিনিময়ে নয় বরং বর্জ্যের বিনিময়ে পাওয়া যাবে এই সেবা, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ওষুধ ও নানা পরীক্ষানিরীক্ষাও।
সোমবার নগরীর ২ নম্বর গেট এলাকায় বিদ্যানন্দ দাতব্য চিকিৎসালয়ে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।
সিটি মেয়র নিজেই পরিত্যক্ত প্লাস্টিকের বিনিময়ে বেশ কয়েকজন রোগীকে সরাসরি চিকিৎসা সেবা দেন। সেই সঙ্গে এটাও জানান যে, ভবিষ্যতে এই চিকিৎসালয়ে স্বেচ্ছাশ্রম দেবেন তিনি।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন দীর্ঘ সময় ধরে তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়ার মাধ্যমে সিটি করপোরেশনকে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করে যাচ্ছে। এই কর্মসূচি মাধ্যমে এই সহযোগিতা আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। বিদ্যানন্দের এই আবিষ্কার বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় একটি রোল মডেল হিসেবে থাকবে।’
বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর মো. জামাল উদ্দিন বলেন, ‘অপর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ফলে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। একই সময়ে এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের মৌলিক চাহিদা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। এই দুইটা সমস্যাকে একটা ধারণার মাধ্যমে সমাধান করার চিন্তা থেকে “প্লাস্টিক কেয়ার” প্রজেক্টের যাত্রা।’
‘এর ফলে একদিকে পরিবেশ দূষণ যেমন কমবে তেমনি প্রান্তিক মানুষও স্বাস্থ্যসেবা পাবেন এবং মানুষের মধ্যে পরিবেশ দূষনের বিরুদ্ধে সচেতনতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। এটি স্থায়ীভাবে চালু থাকবে।’
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের বোর্ড ডিরেক্টর মো. জামাল উদ্দিন, শিশু বিশেষজ্ঞ ড. মুজিবুর রহমান, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নিউটন ঘোষ, মেয়রে একান্ত সহকারী জিয়া উদ্দিন, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদসহ অন্যরা।


