খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম রিতার অভিষেক সুখকর হয়নি। গত ২৩ আগস্ট মন্ত্রণালয়ে তার প্রথম কর্মদিবসে তার সঙ্গে থাকা অতিথির সঙ্গে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ইমদাদুল হকের অসংগত আচরণের অভিযোগ ওঠে।
পরদিন দুই আদেশে সেই কর্মকর্তাকে কারণ দর্শানো নোটিশ ও দায়িত্ব থেকে সরানো হয়। তবে ১০ দিন পরই সেই কর্মকর্তাকে দায়িত্বে পুনর্বহাল করা হয়েছে।
এর আগে আফরোজা খানম রিতা বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন। পরে তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয় দেওয়া হয়। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশ থেকে জানা গেছে, আব্দুল্লাহ আল রিয়াদ চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি ইমদাদুলের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচারণের অভিযোগ করেন।
পরদিন ২৪ আগস্ট সকালে অসদাচরণের জন্য ইমদাদুলকে কারণ দর্শনোর নোটিশ দেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব ক্ষেমালিকা চাকমা।
তাকে কারণ দর্শাতে তিন দিনের সময় দেওয়া হয়। তবে চিঠি দেওয়ার পরক্ষণেই একই দিনে একই ব্যক্তি অপর এক অফিস আদেশে তাকে সেই দপ্তরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেন।
মন্ত্রণলয়ের একাধিক স্টাফ দাবি করেছেন, রিয়াদ চৌধুরী নিজেকে খাদ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব পরিচয় দিয়ে থাকেন। জানতে চাইলে মো. ইমদাদুল হক টাইম অব বাংলাদেশকে বলেন, কারণ দর্শানোর চিঠি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে জবাব দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সেদিন কী ঘটেছিল জানতে রিয়াদ চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সিঙ্গাপুরে আছেন জানিয়ে বলেন, ‘দেশের বিষয়ে বিদেশে বসে কথা বলতে চাই না।’ মন্ত্রীর সঙ্গে তার সম্পর্ক কী-এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘পরিচয় ও সম্পর্ক আছে।’
খাদ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব আব্দুল আউয়াল বুলবুল বলেছেন, ‘রিয়াদ নামে মন্ত্রীর কোনো স্টাফ নেই। কেউ পরিচয় দিলে তা ভুয়া।’
সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার টাইমসকে বলেন, ‘একজনকে শোকজ করে সময় দিয়ে এর মধ্যেই দায়িত্ব থেকে সরানো ঠিক হয়নি। তড়িঘড়ি করে এসব করা খারাপ হয়েছে।’ তার ভাষ্য, সবাই অধৈর্য হয়ে গেছেন।
অভিযোগের সত্যতা না পেলে ১০ দিন পর দায়িত্বে পুনর্বহাল করা যেতে পারে বলেও মন্তব্য করেছেন সাবেক এই সচিব।


