এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাবুল পরিবহনের চালকসহ আটক ৩

এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাবুল পরিবহনের চালকসহ আটক ৩
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় ইসমাইল হোসেনের (৫০) মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ঢাকা-জামালপুর রুটের বাবুল পরিবহনের একটি বাসের চালক সোহেল রানাসহ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দ করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট বাসটি।

শনিবার রাজধানীর মহাখালী এলাকায় র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে গ্রেপ্তার অন্য দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আক্তার হোসেন বলেন, ‘এ বিষয়ে রোববার সংবাদ সম্মেলন করা হবে। সেখানে ডিএমপির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানাবেন।’

এর আগে শুক্রবার সকাল পৌনে ৯টার দিকে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশের প্রবেশমুখ থেকে ইসমাইল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে বনানী থানা পুলিশ। প্রথমে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের সময় ইসমাইলের মুখে স্কচটেপ লাগানো ছিল। তার গায়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের ব্যবহৃত ইউনিফর্মের মতো নীল রঙের শার্ট এবং পরনে লুঙ্গি ছিল। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন ইসমাইল। তার সঙ্গে জমি বিক্রির অবশিষ্ট প্রায় পাঁচ লাখ টাকা এবং দুটি মোবাইল ফোন ছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর টাকা ও ফোন পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের দাবি।

ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান জানিয়েছেন, তার ছোট বোন শারমিনের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করার জন্যই তার বাবা গাজীপুরে আসছিলেন।

আরও পড়ুন

পরিবারের সঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে ইসমাইলের সর্বশেষ কথা হয়। এরপর বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে জামালপুর থেকে তার রওনা দেওয়ার কথা জানিয়েছে পরিবার। সকালে গাজীপুরের জিরানীতে পৌঁছানোর কথা থাকলেও তিনি সেখানে পৌঁছাননি।

হাসান জানান, নির্ধারিত সময়ে বাবাকে আনতে গিয়ে তিনি বারবার ফোন করেন। কিন্তু দুটি ফোনই বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা থেকে তাদের গ্রামের পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করা হলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।

পরিবারের দাবি, মেয়ের বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেছিলেন ইসমাইল। সেই টাকা থেকে পুরোনো দুই লাখ টাকার ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে একটি ঘর নির্মাণে কিছু টাকা ব্যয় করেন। এরপর প্রায় পাঁচ লাখ টাকা তার কাছে ছিল।

ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি আগে গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন।

মরদেহ উদ্ধারের পর থেকেই এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল ইসলাম এর আগে জানিয়েছিলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে সন্দেহভাজন কয়েকটি গাড়ি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা ছিল, ইসমাইলকে শ্বাসরোধে হত্যার পর কোনো একটি গাড়ি থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ ফেলে দেওয়া হতে পারে।

এর একদিনের মাথায় বাবুল পরিবহনের চালকসহ তিনজনকে আটকের এবং একটি বাস জব্দের তথ্য পাওয়া গেল।

তবে ইসমাইলকে বাসের ভেতরে হত্যা করা হয়েছিল কি না, তার সঙ্গে থাকা প্রায় পাঁচ লাখ টাকা ও মোবাইল ফোন কোথায় গেছে এবং কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, এসব বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি পুলিশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর