উপদ্রুত এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার

উপদ্রুত এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করছে সরকার
Advertisement
Advertisement

দেশের দক্ষিণ-পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড়ধসজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম পুরোদমে চলমান রয়েছে।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের জেলা ও উপজেলা তথ্য অফিস এবং তথ্য অধিদপ্তরের আঞ্চলিক অফিসগুলো উপদ্রুত এলাকায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। রোববার এক তথ্যবিবরণীতে এসব জানানো হয়।

আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী চট্টগ্রাম অঞ্চলে বর্তমানে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম মহানগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলা বন্যায় প্লাবিত হওয়ায় জেলা তথ্য অফিস বন্যা পরিস্থিতির কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের জরুরি বার্তা প্রচার করছে বলেও তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়।

এ ছাড়া অনিরাপদ বসতবাড়ি এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা, সাপে কাটা প্রতিরোধ, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তা এবং বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এড়াতে ব্যাপক মাইকিং ও সড়ক প্রচার চালানো হচ্ছে। পাহাড়ি জেলা খাগড়াছড়িতে নতুন করে বৃষ্টি বা পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটেনি এবং অধিকাংশ এলাকা থেকে পানি নেমে গেলেও পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।

কক্সবাজার পৌরসভাসহ আক্রান্ত ৭৪টি ইউনিয়নের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৫৮ মিমি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। রাঙামাটি জেলার সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে, তবে ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে জেলা তথ্য অফিসের সড়ক প্রচার অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন

বান্দরবান জেলার দুর্যোগ পরিস্থিতি এখন সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে মানুষ নিজ নিজ বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছে।

অন্যদিকে, সিলেট অঞ্চলে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৯ মিমি বৃষ্টিপাত হওয়ায় সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন ও পিয়াইনসহ প্রধান নদীগুলোর পানি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘস্থায়ী বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও কিছু নিচু এলাকায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। খোয়াই নদীর বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের তিনটি উপজেলা প্লাবিত হলেও বর্তমানে বৃষ্টি কম হওয়ায় পানি কমতে শুরু করেছে।

মৌলভীবাজার জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতিও স্থিতিশীল রয়েছে এবং মনু নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে অবস্থান করছে। কমলগঞ্জ উপজেলায় নদীরক্ষা বাঁধে ভাঙন দেখা দিলেও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের বন্যা পরিস্থিতির ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে বলেও জানানো হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের এই সময়ে উপদ্রুত এলাকার মানুষকে সচেতন ও নিরাপদ রাখতে তথ্য অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের সকল অফিস বন্যাকালীন ও বন্যা পরবর্তী করণীয় বিষয়ে সড়ক প্রচার, চলচ্চিত্র প্রদর্শন ও মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে বলেও তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad