ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও বিনিয়োগে চীনকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর

ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও বিনিয়োগে চীনকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রতিমন্ত্রীর
ছবি: মন্ত্রণালয়ের সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে দেশের বৃহৎ অবকাঠামো, সুপেয় পানি সরবরাহ, আধুনিক ড্রেনেজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা খাতে চীনের বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সম্মেলনকক্ষে চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) চেয়ারম্যান (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার) ডাই হেগেন-এর নেতৃত্বে এক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত দ্বিপাক্ষিক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহা. আবদুস সালাম, ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহা. মনিরুজ্জামানসহ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী দেশের বিশাল স্থানীয় সরকার কাঠামোর চিত্র তুলে ধরে বলেন, এলজিইডি, ওয়াসা, সিটি করপোরেশন ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) মতো সংস্থাগুলো সারা দেশে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিতে ব্যাপকভাবে কাজ করছে। ৫ শতাধিক উপজেলা পরিষদ, ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, প্রায় ৪ হাজার ৯০০টি ইউনিয়ন পরিষদ এবং ৬১টি জেলা পরিষদ নিয়ে গঠিত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সারা দেশে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

মীর শাহে আলম উল্লেখ করেন, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেল, চীন সরকারের সরাসরি অর্থায়ন কিংবা আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী ব্যাংকের (যেমন এডিবি) সহায়তায় বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিশেষ করে ওয়েস্ট-টু-এনার্জি (বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন), পানি সরবরাহ, সড়ক ও সেতু নির্মাণে চীন সরকারের ধারাবাহিক অবদানের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সরকারের ‘গ্রামকে শহরে রূপান্তর’ ও সার্বিক অবকাঠামো পুনর্গঠনের রূপকল্প বাস্তবায়নে সিআরসিসির আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, গ্রাম ও শহরের সড়ক যোগাযোগ, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ এবং সুপেয় পানি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নে সিআরসিসি সরাসরি বা পিপিপি মডেলে বিনিয়োগে এগিয়ে এলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

চীনা প্রতিনিধিদলের পক্ষে সিআরসিসি চেয়ারম্যান ডাই হেগেন জানান, বিশ্বজুড়ে ১৫০টিরও বেশি দেশে বিস্তৃত এবং ৩০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ সম্পদের অধিকারী সিআরসিসি দীর্ঘ দিন ধরে বৈশ্বিক ঠিকাদারি খাতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

বাংলাদেশে বর্তমানে সংস্থাটি ১ দশমিক ৩৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের ২৪টি চলমান প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে তারা কক্সবাজার রেল সংযোগ প্রকল্প, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ও অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন করেছে।

তিনি আরও জানান, নবায়নযোগ্য শক্তি, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সৌর বিদ্যুৎ ও গ্রামীণ অঞ্চলে আর্সেনিকমুক্ত নিরাপদ সুপেয় পানি নিশ্চিত করতে নিজস্ব উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশে কাজ করতে সিআরসিসি অত্যন্ত আগ্রহী। বাংলাদেশের পল্লী ও শহর অঞ্চলের সুষম ও দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নে সিআরসিসি একটি নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকতে চায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad