ফুটবল বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের ম্যাচে এক ব্লকবাস্টার লড়াইয়ের অপেক্ষায় বিশ্ব ফুটবলের কোটি কোটি ভক্ত। যেখানে মুখোমুখি হচ্ছে ইউরোপের দুই পরাশক্তি পর্তুগাল ও ক্রোয়েশিয়া।
বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৫টায় টরন্টো স্টেডিয়ামে শুরু হবে এই হাইভোল্টেজ ম্যাচ। তবে এই ম্যাচের জয়-পরাজয়ের চেয়েও ফুটবল রোমান্টিকদের সব নজর কেড়ে নিয়েছে দুই কিংবদন্তি ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো ও লুকা মদরিচ।
যদি সবকিছু ঠিকঠাক থাকে এবং এই দুই মহানায়ক শুরুর একাদশে থাকেন, তবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় ও বিরলতম অধ্যায় তৈরি হবে। এই প্রথম বিশ্বকাপের মঞ্চে ৪০ বা তার বেশি বয়সী দুই ‘আউটফিল্ড’ (গোলরক্ষক বাদে) ফুটবলার একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধংদেহী মেজাজে মাঠে নামবেন।
এবারের বিশ্বকাপ শুরুর আগেই ৪০-এর ঘরে পা দিয়েছেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিষ্টিয়ানো। অন্যদিকে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠের জাদুকর মদরিচও ইতোমধ্যে পার করেছেন বয়সের এই বিশেষ মাইলফলক। রিয়াল মাদ্রিদের সোনালী দিনগুলোতে একসময় কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ গুঁড়িয়ে দেওয়া এই দুই সাবেক সতীর্থই আজ একে অপরের শেষ ষোলোর স্বপ্ন চুরমার করতে নামবেন।
ফুটবল ইতিহাসের খাতা ওল্টালে দেখা যায়, ৪০ বছর বয়স পার করার পর বিশ্বকাপে খেলার অনন্য কীর্তি গড়েছিলেন ক্যামেরুনের কিংবদন্তি রজার মিলা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রাশিয়ার বিপক্ষে যখন তিনি মাঠে নামেন, তখন তার বয়স ছিল ৪২ বছর ৩৯ দিন। বিশ্বকাপে এর চেয়ে বেশি বয়সে খেলার রেকর্ড আরও দুজনের থাকলেও, তাঁরা দুজনই ছিলেন গোলরক্ষক।
তবে চলতি আসরেই এই তালিকায় নতুন করে নাম লিখিয়েছেন বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার অধিনায়ক এদিন জেকো। গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের ম্যাচে ৪০ বছর ১০৬ দিন বয়সে মাঠে নেমে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে খেলা প্রথম ৪০-উর্ধ্ব আউটফিল্ড খেলোয়াড় হওয়ার রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন জেকো।
এবার ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানেই জেকোর সেই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন ক্রিষ্টিয়ানো ও মদরিচ। টরন্টোর এই ম্যাচটি তাই কেবল শেষ ষোলোর টিকিট কাটার লড়াই নয়, বরং আধুনিক ফুটবলের দুই চিরসবুজ মহীরুহের বয়সকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকার রাতও বটে।


