পুরান ঢাকার ওয়ারীতে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকা বলধা গার্ডেন যেন এক শতাব্দীর পরিবর্তনের নীরব সাক্ষী। জমিদার নরেন্দ্র নারায়ণ রায় চৌধুরীর উদ্যোগে বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে প্রতিষ্ঠিত এই বাগান একসময় সারা বিশ্ব থেকে সংগ্রহ করা বিরল ও বৈচিত্র্যময় উদ্ভিদে পরিপূর্ণ ছিল।

বলধা গার্ডেন ছিল একটি উদ্ভিদতাত্ত্বিক সম্পদ এবং উপমহাদেশের মধ্যে টিকে থাকা প্রাচীনতম বাগানগুলোর একটি। কিন্তু আজ চারপাশের ক্রমবর্ধমান নগরায়ণের ভারে বাগানটি যেন শ্বাস নিতে পারছে না। উঁচু উঁচু ভবনগুলো বিরল প্রজাতির উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় সূর্যালোক আটকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, বাগানের কর্মীরা নিয়মিত বাগানের ভেতরেই বর্জ্য পোড়ান, ফলে ধোঁয়ায় ভারী হয়ে ওঠে বাতাস। অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও যত্রতত্র ময়লা ফেলার কারণে বাগানের কিছু অংশ অবহেলায় ক্ষয়ে গেছে।

একসময় যে জায়গাটি জীববৈচিত্র্যের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল, আজ সেই বাগানই যেন আলো-বাতাসের জন্য হাঁসফাঁস করছে। বলধা গার্ডেনের এই দুর্দশা ঢাকার ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোর ওপর চলমান বৃহত্তর সংকটেরই প্রতিচ্ছবি। উঁচু উঁচু দালান পরিবেষ্টিত হয়ে শহর যখন ক্রমেই বেড়ে উঠছে, তখন তার ঐতিহাসিক স্থানগুলো চারদিক থেকে সংকুচিত হয়ে ধীরে ধীরে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে।

বলধা গার্ডেন শুধু তার উদ্ভিদ প্রজাতির ঐতিহ্য হারাচ্ছে না; এটি হারাচ্ছে তার উদ্দেশ্য, তার ইতিহাস এবং নগরের স্মৃতিতে তার অমলিন স্থান। শতবর্ষী এই উদ্ভিদতাত্ত্বিক ঐতিহ্য শুধু অবহেলার কারণে নয়, বরং চারদিক থেকে চাপ সৃষ্টি করা শহরের বড় বড় দালানের নিরলস বিস্তারের কারণেও ধীরে ধীরে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে পড়ছে।

জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে, একসময়কার বিরল উদ্ভিদের প্রাণবন্ত এই জীবন্ত জাদুঘরটি হয়তো একদিন পুরান ঢাকার আরেকটি বিস্মৃত কোণে পরিণত হবে।


