সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আত্মহত্যার প্ররোচনার এই মামলায় এমপি নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এর আগে তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।
সোমবার তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মরিয়মের আত্মহত্যার ঘটনায় মামলা করেছেন তার বাবা মো. মাসুম বিল্লাহ। এতে আসামি করা হয়েছে গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও বাদীর শ্যালক সেই গাড়ি চালক ওবায়দুর রহমানকে। ওবায়দুর রহমান পলাতক, তাকে খুঁজছে পুলিশ।
মামলার এজাহারে মরিয়মের বাবা উল্লেখ করেছেন, তার বড় মেয়ে ভুক্তভোগী মরিয়ম খাতুনের সঙ্গে এমপি নজরুলের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়। তিন নম্বর আসামি ওবায়দুর রহমানের প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়।
বিয়ের পর থেকেই নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ভুক্তভোগীকে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। যা বিভিন্ন সময়ে মোবাইল ফোনে পরিবারকে জানাতেন মরিয়ম।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে এবং আসামিদের প্ররোচনায় মরিয়ম আত্মহত্যা করেছেন।
ডিসি ইবনে মিজান বলেন, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এর আগে, রোববার রাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানার ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর বিল্ডিংয়ের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ সময় বাসায় থাকা নজরুল ও তার প্রথম স্ত্রীকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। তাদের হেফাজতে নেওয়ার সময় নিহত মরিয়মের বাবাও উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মাকসুদা নিহত মরিয়মের দাদি। মরিয়মের আপন দাদি মাসুমা ও মাকসুদা দুজন আপন বোন। সংসদ সদস্য গাজী নজরুল সম্পর্কে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহর আপন খালু।
আরও পড়ুন>>>
এমপি গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
জামায়াত এমপির ভিডিও ভাইরাল, তরুণীকে দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি


