ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ভবিষ্যতের সব নির্বাচনের জন্য মানদণ্ড নির্ধারণ করবে বলে মনে করেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুস।
তিনি বলেন, ‘সরকার ১২ ফেব্রুয়ারি অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত। একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে। এটি ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের মানদণ্ড তৈরি করবে।’
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে প্রথম সৌজন্য সাক্ষাতে এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় এ সাক্ষাৎ হয়।
বৈঠকে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন, অন্তর্বর্তী সরকার অনুমোদিত শ্রম আইন, পরিকল্পিত বাংলাদেশ-মার্কিন শুল্ক চুক্তি এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান প্রধান পররাষ্ট্রনীতিগুলো তুলে ধরেন।
আসন্ন নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিপুল সংখ্যক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করবে এবং অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরাও নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠাবে বলে আশার কথা জানান তিনি।
ক্রিস্টেনসেন বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে যে পক্ষই জয়ী হোক না কেন, তিনি তাদের সাথে কাজ করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন।
তিনি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং গত ১৮ মাসে মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন।
অধ্যাপক ইউনুস বাংলাদেশে বসবাসরত ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা নাগরিকের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন।
দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ঢা‘কা আসিয়ানের সদস্যপদ পেতে আগ্রহী এবং এরই মধ্যে এই আঞ্চলিক জোটের সঙ্গে সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনারশিপের জন্য আবেদন করেছে।’
এসময় বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়কারী লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


