ঈদের বাকি আর ১০ বা ১১ দিন। সরকারি ছুটির ওপর নির্ভর করে আগামী সপ্তাহের শুরু থেকেই ঢাকা ছাড়তে শুরু করবে মানুষ।
যাত্রীদের এবারের ঈদযাত্রা নিরাপদ, স্বস্তিদায়ক ও নির্বিঘ্ন করতে নানা ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)।
মঙ্গলবার এ সংক্রান্ত এক জরুরি সভা থেকে ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।
সমন্বিত এ সভায় ডিএসসিসির পাশাপাশি ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা সড়ক পরিবহন বাস মালিক সমিতি, সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতি ও সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল পরিবহন শ্রমিক কমিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, সায়েদাবাদ ব্রিজের ঢাল থেকে টিটি পাড়া পর্যন্ত এলাকায় রাস্তার পাশের সব অবৈধ টিকেট কাউন্টার সরিয়ে ফেলা হবে। এছাড়া টার্মিনালের ভেতরে থাকা অবৈধ দোকানও দ্রুতই অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ করবে ডিএসসিসি।
পাশাপাশি টার্মিনালের ভেতরে প্রকৃত বাস কোম্পানিগুলোর অনুকূলে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে টিকেট কাউন্টার বরাদ্দ দেওয়া হবে। বাস মালিক সমিতি, ডিএসসিসি ও পুলিশের ট্রাফিক সমন্বিতভাবে কাউন্টার বরাদ্দে কাজ করবে।
বাসগুলোকে ডিপো হিসেবে টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারবে না। নির্ধারিত পাঁচটি বাস-বে ব্যবহার করতে হবে। যাত্রী তোলার জন্য বাসগুলো টার্মিনালে মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করতে পারবে বলেও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য টার্মিনালে নতুন তথ্য কেন্দ্র এবং মায়ের দুধ পান করানোর জন্য বিশেষায়িত কক্ষ স্থাপন করা হবে বলেও সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া ঈদযাত্রার আগে টার্মিনালের অসমাপ্ত সংস্কার কাজ, শৌচাগার মেরামত এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নিতেও সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এবারের ঈদযাত্রায় যাত্রীদের কাছ থেকে যেন কোনো পরিবহন কর্তৃপক্ষ সরকার নির্ধারিত ভাড়ার বেশি টাকা আদায় করতে না পারে, সে বিষয়ে পরিবহন মালিক সমিতিকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আবার ঈদযাত্রায় ব্যবহারের জন্য টার্মিনালের ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা পরিত্যক্ত বাসগুলো যেন ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য সেগুলো জব্দ করে অপসারণের জন্য ট্রাফিক বিভাগকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপ মূল সড়কের যানজট কমাতে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘ইদ যাত্রাকে নির্বিঘ্ন করতে ও দীর্ঘমেয়াদী যানজট নিরসনে সিটি কর্পোরেশন, পুলিশ, বাস মালিক ও শ্রমিকরা আমরা একসাথে কাজ করব। যাত্রীদেরকে স্বস্তি দেওয়ার জন্য সমন্বিত সিদ্ধান্তসমূহ যে কোনো মূল্যে বাস্তবায়ন করা হবে।’


