গত বছরের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা এবং হত্যাচেষ্টার ঘটনায় করা মামলাগুলো যেন ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। অসংখ্য নিরীহ মানুষকে এসব মামলায় জড়ানো হচ্ছে, এমনকি ঘটনাস্থলের সঙ্গে দূর-দূরান্তের সম্পর্ক না থাকলেও অনেককে আসামি করা হচ্ছে। জুলাই আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এমন কয়েক ব্যক্তির নামও মামলায় যুক্ত করা হয়েছে। এমনকি জামায়াত ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেশ কয়েকজন নেতা এসব মামলায় কারাগারেও রয়েছেন। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের সময় হত্যা ও আহতের ঘটনায় দেশব্যাপী ১ হাজার ৬০১ টি মামলা হয়েছে। যার মধ্যে ৬৩৭টি হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষকে। কেবল ঢাকাতেই ৫০টি…
Author: মিনহাজুল ইসলাম
ঢাকার নিম্ন আদালত এলাকার চার হাজতখানায় প্রতিদিন আনা হয় ৫০০ জনের মতো আসামি। এরমধ্যে নতুন গ্রেপ্তার হয়ে আসা আসামিদের পাশাপাশি থাকেন কারাগার থেকে আনা আসামিরাও। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এত বিশাল পরিমাণ আসামি আনা-নেওয়া, আদালতে তোলার কাজে যে পরিমাণ পুলিশ প্রয়োজন তার সংকট রয়েছে। আদালত সূত্রে জানা যায়, সবমিলিয়ে নিম্ন আদালত এলাকায় ৫৪৫ জন পুলিশ সদস্য ও কর্মকর্তা কর্মরত রয়েছেন। এর মধ্যে হাজতখানায় আসামি আটক রাখা ও আনা-নেওয়া সংক্রান্ত কাজে কর্মরত পুলিশের সংখ্যা ২৫৭ জন। তবে ভিআইপি বা ঝুঁকিপূর্ণ আসামি আদালতে আনা হলে রাজারবাগ পুলিশ লাইন থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়ন করা হয়। হাজতখানাগুলোর মধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজতখানায় ১৪৩…
২০২২ সালের ২০ নভেম্বর দুপুরে ঢাকার সিএমএম আদালত এলাকায় পুলিশের ওপর পিপার স্প্রে করে জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মইনুল হাসান শামীম ও আবু সিদ্দিক সোহেলকে ছিনিয়ে নিয়ে যায় জঙ্গিরা। এ সময় অপর আসামি আরাফাত ও সবুরকেও ছিনিয়ে নিতে চেষ্টা করে তারা। পরে ঘটনাস্থল থেকে আরাফাত ও সবুরকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কোতোয়ালী থানায় তৎকালীন কোর্ট পরিদর্শক জুলহাস উদ্দিন আকন্দ বাদী হয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় ছিনিয়ে নেওয়া জঙ্গিদের পাশাপাশি আরও ৭ থেকে ৮ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। ধাপে ধাপে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয় ২৪ জনকে। ইতোমধ্যে তারা সবাই নিম্ন ও…
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নামে মামলা করা নড়াইলের কালিয়া উপজেলার সৈয়দ আশিক বিল্লাহ ‘জুলাই আহত’ তালিকাভুক্ত হয়েছেন ঢাকায়–এ তথ্য ঘিরে শুরু হয়েছে তোলপাড়। এ ঘটনার তদন্ত ছাড়াই কয়েকজন সমালোচক জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায় চাপানোর পোস্ট দিয়েছেন। তবে নথিতে উঠে এসেছে ভিন্ন তথ্য। নথি অনুযায়ী, সৈয়দ আশিক বিল্লাহ রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় ‘আহতের এমআইএস (ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম)’-এ অন্তর্ভুক্ত হন। জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সেখানে ভর্তি থাকার কারণেই তিনি আহত তালিকাভুক্ত হন। তবে তিনি আন্দোলনের পক্ষে নাকি দমন অভিযানে গিয়ে আহত হয়েছিলেন, এ নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। নড়াইল জেলা সিভিল সার্জন ও আহত তালিকা প্রস্তুত কমিটির…
দেশে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত মামলাগুলোর বিচারের গতি ভীষণ ধীর। এর কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আদালত সংকটের কথা। অর্থাৎ নারী নির্যাতনকারীদের বিচারের জন্য গঠিত ট্রাইব্যুনালেই শিশু-সম্পর্কিত অপরাধের বিচারও করতে হয়। ফলে মামলার সংখ্যা বেড়ে যায়, বিচার প্রক্রিয়াও হয় দীর্ঘায়িত। আইন বিশেশজ্ঞ, আইনজীবী এবং আদালত কর্মকর্তারা মনে করেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোর ওপর চাপ কমানোর জন্য শিশু সংক্রান্ত অপরাধের বিচারে আলাদা আদালত গঠন করা জরুরি। বিশেষ করে ধর্ষণ শিকার নারীদের জন্য, যেন তারা সময়মতো ন্যায়বিচার পায়। ধর্ষণকে দেখা হয় সবচেয়ে ঘৃণ্য অপরাধ হিসেবে। কিন্তু দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে ক্রমেই এই ঘটনা বাড়ছে। বিভিন্ন সময়ই ধর্ষণের দ্রুত বিচার…

