রাজধানীর হাজারীবাগ, লালবাগ ও কামরাঙ্গীরচর এলাকায় পৃথক ঘটনায় এক গৃহবধূসহ তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে।
মৃত ব্যক্তিরা হলেন হাজারীবাগের লামিয়া আক্তার (১৯), লালবাগের আইয়ুব আলী (৩৭) এবং কামরাঙ্গীরচরের বিলকিস (২৬)। বৃহস্পতিবার সকালে ও বিকালে তাদের মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
জানা গেছে, বুধবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাজারীবাগের সোনাগড় এলাকার একটি বাসায় গলায় ফাঁস দেন লামিয়া আক্তার। পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসলে বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ৭টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের স্বামী মো. আজমান জানান, তারা ওই এলাকার একটি বাসার ৩য় তলায় ভাড়া থাকতেন। লামিয়া একটি পার্লারে কাজ করতেন। বুধবার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয়।
এক পর্যায়ে লামিয়া ঘরের দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে দেখা যায়, তিনি ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলছেন। লামিয়ার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার তারাকান্দা থানার নয়াপাড়া গ্রামে।
এদিকে, লালবাগের আতশ খানা রোডের একটি মেস থেকে আইয়ুব আলী নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ইডেন মহিলা কলেজের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার বাড়ি বগুড়ার শাহজাহানপুর থানার সুজাবাদ গ্রামে।
লালবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবু তাহের মোল্লা জানান, বুধবার রাত ৮টার দিকে রুমমেটরা বাসায় ফিরে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় দরজা ভেঙে ফ্যানের সঙ্গে গামছা দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপরদিকে, বৃহস্পতিবার বিকালে কামরাঙ্গীরচর এলাকা থেকে বিলকিস নামে এক নারীকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল সূত্র জানায়, তাকে অচেতন অবস্থায় নিয়ে আসা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে মৃত ঘোষণা করেন। তার বাবার নাম মো. বারেক।
সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতিটি ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সবকটি ঘটনা আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


