ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী অবরোধ ভাঙতে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার দিকে রওনা হয়েছে আরও ১১টি নৌযান। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক সংস্থা ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (এফএফসি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই বহরে প্রায় ১০০ জন মানবাধিকারকর্মী ও যাত্রী রয়েছেন। খবর আনাদোলু এজেন্সির।
এফএফসি ২০০৮ সাল থেকে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনিদের কষ্ট বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার জন্য নিয়মিত মিশন পরিচালনা করে আসছে।
সংস্থাটি জানিয়েছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর ইতালীয় ও ফরাসি পতাকা বহনকারী একটি জাহাজ ইতালির অটরান্টো থেকে যাত্রা শুরু করে। ৩০ সেপ্টেম্বর ‘কনসায়েন্স’ নামে আরও একটি জাহাজ এতে যোগ দেয়। শিগগিরই ‘থাউজন্ড ম্যাডলিনস টু গাজা’ নামের আরও আটটি জাহাজ এই বহরে যুক্ত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ থেকে খ্যাতিমান আলোকচিত্রী ও অধিকারকর্মী শহিদুল আলম ‘কনসায়েন্স’ নামের জাহাজটিতে অংশ নিয়েছেন।
শুক্রবার দুপুরে ফেসবুকে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি জানান, কনসায়েন্স বহরের সবচেয়ে বড় নৌযান এবং তাদের সঙ্গে আরও আটটি ছোট নৌযান রয়েছে। এদিন তারা ফিলিস্তিনি টাইম জোনে প্রবেশ করেছেন।
এর আগে, সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’ নামে আরেকটি নৌবহর গাজার উদ্দেশে রওনা হয়। তবে ইসরায়েলি নৌবাহিনী সেই বহরের ৪৪টি জাহাজ এবং তাতে থাকা ৫০০ জনেরও বেশি কর্মীকে আটক করে। পাশাপাশি গাজার অভিমুখী শেষ জাহাজ ‘মারিনেট’কেও আটক করে।
ইসরায়েল আগেও গাজাগামী নৌযানগুলোতে হামলা চালিয়ে মালামাল বাজেয়াপ্ত এবং অধিকারকর্মীদের আটক করে। প্রায় দুই বছর ধরে ইসরায়েল বিদেশি সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশে বাধা দিচ্ছে এবং ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ২৭০-এর বেশি সাংবাদিক নিহত হয়েছেন এবং অনেকে কারাগারে বন্দী।

সীমান্তে ধারাবাহিক অবরোধ এবং বোমাবর্ষণের কারণে গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা কার্যত ধ্বংসপ্রাপ্ত। হাসপাতাল ও ক্লিনিক ধ্বংস, চিকিৎসক অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
আন্তর্জাতিক চিকিৎসক দলকেও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়, যারা অনুমতি পান, তাদেরও জীবনরক্ষাকারী সরঞ্জাম আনতে দেওয়া হয় না।
ইসরায়েল প্রায় ১৮ বছর ধরে গাজায় অবরোধ চালিয়ে আসছে। প্রায় ২৪ লাখ মানুষের বাস এই উপত্যকায়। চলতি বছরের মার্চে সীমান্ত ক্রসিং বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহে অবরোধ আরও কঠোর হয়। এর ফলে গাজা চরম খাদ্যসংকটে পড়ে।
জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থা বারবার সতর্ক করেছে, এই অবরুদ্ধ অঞ্চলে অনাহার ও রোগব্যাধি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং গাজা ক্রমেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের বোমাবর্ষণে এখন পর্যন্ত ৬৬ হাজার ২০০-এর বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের অভিযানে ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশনের পাশাপাশি আরও তিনটি জোট অংশ নিয়েছে। এরা হলো–
গ্লোবাল মুভমেন্ট টু গাজা (জিএমটিজি): আগে গ্লোবাল মার্চ টু গাজা নামে পরিচিত, তৃণমূল পর্যায়ের আন্দোলন, গাজার প্রতি বিশ্ব সংহতির কর্মসূচি আয়োজন করে এবং অবরোধ ভাঙার চেষ্টা করে।
মাগরেব সুমুদ ফ্লোটিলা: আগে ‘সুমুদ কনভয়’ নামে পরিচিত, উত্তর আফ্রিকাভিত্তিক উদ্যোগ, ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেয়।
সুমুদ নুসান্তারা: মালয়েশিয়া ও আরও আটটি দেশের জনগণের নেতৃত্বাধীন বহর, গাজার অবরোধ ভাঙতে এবং গ্লোবাল সাউথ দেশগুলোর মধ্যে সংহতি জোরদার করতে কাজ করে।
এই অভিযানের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের নজর কাঙ্খিত মানবিক সংকটের দিকে ফেরানো ও গাজার মানুষের পাশে থাকার প্রক্রিয়া জোরদার করা হচ্ছে।


