দেশে তামাক ব্যবহারজনিত কারণে বছরে প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে নীতি-সংলাপে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবে কোটি কোটি মানুষ, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
শনিবার সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে নারী স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন’ শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক নীতি-সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। তাবিনাজ (তামাকবিরোধী নারী জোট) ও উবিনীগ (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। একজন ব্যক্তি তামাকজাত দ্রব্য নিলে তার আশপাশে থাকা অন্তত ১০ জন মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবে আক্রান্ত হন, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে।’
তিনি জানান, তাবিনাজের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ই-সিগারেট নিষিদ্ধের ধারাসহ তামাক নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ কোনো ধরনের পরিবর্তন ছাড়াই আইনে রূপান্তরের জন্য তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন।
সংলাপে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উবিনীগের টোব্যাকো কন্ট্রোল প্রজেক্টের কো-অর্ডিনেটর হাসানুল হাসিব আল গালিব।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার না করলেও পরোক্ষ ধূমপানের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, ‘তামাক কোম্পানিগুলো নানা কৌশলে তরুণদের লক্ষ্য করে প্রচারণা চালিয়ে থাকে।’
ই-সিগারেট তাদের মধ্যে অন্যতম, যা তরুণ সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি ই-সিগারেট নিষিদ্ধকরণ ও পণ্য প্রদর্শন বন্ধের ধারা বহাল রেখে অধ্যাদেশটি পাসের আহ্বান জানান।
উবিনীগের পরিচালক সীমা দাস সীমু বলেন, ‘তামাকের কারণে নারীরা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্মুখীন হচ্ছেন। কর্মক্ষেত্রে ১৯ শতাংশ, গণপরিবহনে ৩৮ শতাংশ এবং বাড়িতে ৩৭ শতাংশ নারী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। গর্ভাবস্থায় তামাক সেবন বা পরোক্ষ ধূমপান গর্ভস্থ সন্তানের অপরিণত জন্ম বা কম ওজনের ঝুঁকির প্রধান কারণ।’
অনুষ্ঠানের সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এম. এ. সোবহান বলেন, ‘বিক্রয়স্থলে তামাকজাত দ্রব্যের প্রদর্শন শিশু ও কিশোর-কিশোরীদের তামাক ব্যবহারে প্রলুব্ধ করে। অধ্যাদেশটিকে আইনে রূপান্তর করা হলে তা যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।’
সংলাপ থেকে নারী, শিশু ও তরুণ প্রজন্মের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় অধ্যাদেশটি অপরিবর্তিতভাবে দ্রুত জাতীয় সংসদে পাস করে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত করার জোর দাবি জানানো হয়।
এতে তাবিনাজের সদস্য, কৃষক ফেডারেশনের সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন।


