রাজধানীর বাড্ডার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মী আবুল কালাম। প্রিয়জনদের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে ফিরছিলেন কর্মস্থলে। কুষ্টিয়া থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে ওঠে যখন দৌলতদিয়া টার্মিনালে পৌঁছান, তিনি জানতেন না পরমায়ু তাকে কতটা কাছে থেকে মৃত্যুর সংকেত দিচ্ছে।
বুধবার বিকালে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুনে ফেরির অপেক্ষায় ছিল বাসটি। দীর্ঘ যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে দুর্ঘটনার মাত্র দুই মিনিট আগে ওই বাস থেকে নিচে নামেন কালাম। কিন্তু নিজের ব্যাগটি রেখে গিয়েছিলেন সিটেই। মুহূর্তেই তার চোখের সামনে ঘটে গেল সেই করুণ দৃশ্য—অর্ধশত যাত্রীসহ বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধীরে ধীরে তলিয়ে গেল পদ্মার অতল গহ্বরে।
হতভম্ব কালাম বিমূঢ় হয়ে তাকিয়ে রইলেন। একদিকে নিজের বেঁচে যাওয়ার বিস্ময়, অন্যদিকে বাসের ভেতরে থাকা জীবনের সঞ্চয় হারানোর আতঙ্ক। তার সেই ব্যাগে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—মূল শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ (সার্টিফিকেট), জাতীয় পরিচয়পত্র, দক্ষিণ কোরিয়া যাওয়ার প্রস্তুতির নথিপত্র এবং নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা।
বাস ডুবে যাওয়ার পর কালাম আর ঢাকা ফেরেননি। ঠায় বসে ছিলেন ঘাটে, যদি শেষ রক্ষা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। তিনি ফিরে পেলেন তার ব্যাগ। বাসটি তোলার পর শুধু কালাম নন, তার মতো অন্তত ২৫ জন যাত্রীর ব্যাগ উদ্ধার করে দৌলতদিয়া নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে জমা রাখা হয়েছে।
যথাযথ প্রমাণ দিয়ে নিজের ব্যাগটি বুঝে পান কালাম। জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদগুলো অক্ষত ফিরে পেয়ে কালাম বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি ব্যাগটি ফিরে পাব। তবে নিজের জীবনের চেয়ে বড় তো আর কিছু নেই। দুই মিনিট আগে না নামলে আজ হয়ত নিথর দেহ হয়ে ফিরতে হতো।’
কালাম বলেন, ‘আমার সামনেই বাসটি ধীরে ধীরে নদীতে তলিয়ে যায়। তখন আমি মোবাইল বের করে ভিডিও করব, না কী করব বুঝতে পারছিলাম না। অনেকটা হতভম্ব হয়ে পড়ি। আমার ব্যাগে ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—মূল সার্টিফিকেট, এনআইডি, কোরিয়া যেতে প্রস্তুতি নেওয়ার কাগজপত্র ও নগদ সাড়ে ৪ হাজার টাকা। বাস ডুবে যাওয়ার পর ঢাকায় ফিরিনি।’
উল্লেখ্য, বুধবার বিকালের ওই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


