যুদ্ধ শেষের পথে: যুক্তরাষ্ট্রের হাউস স্পিকার
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত দ্রুতই শেষের দিকে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার মাইক জনসন। খবর বিবিসির
বুধবার ওয়াশিংটন ডিসিতে মার্কিন গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “আমার মনে হয় আমরা ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ গুটিয়ে আনছি। এটি দ্রুতই শেষ হবে এবং নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ীই এগোচ্ছে।”
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, তার প্রশাসন ইরানের ‘সঠিক ব্যক্তিদের’ সঙ্গে যোগাযোগ করছে, যারা একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী।
তবে ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পাঠানো একটি শান্তি প্রস্তাবকে ‘বাড়াবাড়ি’ আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব ‘চরম অযৌক্তিক’: ইরান
উচ্চপদস্থ কূটনৈতিক সূত্র আল-জাজিরাকে নিশ্চিত করেছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তা ‘অত্যন্ত চরম ও অযৌক্তিক’ বলে বিবেচনা করছে।
ইরানের সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ জানিয়েছেন, তেহরান ‘ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের সব পদক্ষেপ, বিশেষ করে সেনা মোতায়েন, নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে’।
ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিভ্রমের জন্য কোনো মার্কিন সৈন্যকে বলি দেওয়া ঠিক হবে না।
সূত্র: আল জাজিরা

ইরানের স্কুলে হামলা নিয়ে জাতিসংঘে জরুরি আলোচনা শুক্রবার
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ (ইউএনএইচআরসি) শুক্রবার ইরানের একটি স্কুলে বিমান হামলা নিয়ে দ্বিতীয় জরুরি আলোচনা করবে।
বুধবার মানবাধিকার পরিষদের সভাপতি সিধার্তো রেজা সূর্যোদিপুরো এ ঘোষণা দেন। আলোচনার বিষয় হবে ‘আন্তর্জাতিক সশস্ত্র সংঘাতে শিশু এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রক্ষা’।
ইরান, চীন এবং কিউবা এই আলোচনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি, যুদ্ধের প্রথম দিনে, ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিনাব শহরে স্কুলে বিমান হামলার ঘটনা ঘটে।
ইরানের কূটনীতিক সোমায়েহ করিমদুস্ত পরিষদে বলেন, ‘এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের গুরুতর লঙ্ঘন।’ তিনি আরও জানান, এই হামলায় সাত থেকে বারো বছর বয়সী ১৬৮ শিশু নিহত হয়েছে এবং আরও অনেকেই আহত হয়েছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানে ৩৯ জন গ্রেপ্তার, স্টারলিংক ডিভাইস ও বিপুল অস্ত্র জব্দ
ইরানের রাজধানী তেহরানে অভিযান চালিয়ে ৩৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা। একই সঙ্গে অন্তত সাতটি স্টারলিংক ডিভাইসসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করা হয়েছে।
আল জাজিরা দেশটির গোয়েন্দা সংস্থার বরাতে জানিয়েছে, অভিযানের সময় ৪৯টি দেশীয় তৈরি বোমা, দুটি কালাশনিকভ রাইফেল, ১৬টি পিস্তল, ৫০টি ম্যাগাজিন ক্লিপ এবং ১ হাজার ৫০০টির বেশি গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দাবি, জব্দ করা এসব সরঞ্জাম দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার উদ্দেশ্যে ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছিল।
এদিকে ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণ সংস্থা নেটব্লকস জানিয়েছে, ইরানজুড়ে সরকার আরোপিত ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ২৬ দিনে পৌঁছেছে। দীর্ঘ সময়ের এই সংযোগ বিচ্ছিন্নতায় দেশজুড়ে যোগাযোগ ও তথ্যপ্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
লেবাননে গাজার মতো ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে চান নেতানিয়াহু: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু লেবাননের ওপর গাজার মতোই ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে চান বলে অভিযোগ করেছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।
স্পেনের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে পেদ্রো সানচেজ বলেন, নেতানিয়াহু লেবাননে এমন মাত্রার হামলা চালাতে আগ্রহী, যা ইতোমধ্যে গাজায় দেখা গেছে।
একই বক্তব্যে তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধকে “সম্পূর্ণ এক বিপর্যয়” হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার ভাষায়, এই যুদ্ধ “চিরচেনা কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষায়” পরিচালিত হচ্ছে।
সানচেজ আরও বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনকে দুর্বল করছে, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা বাড়াচ্ছে এবং ইরাক ও লেবাননে নতুন করে সংঘাত উসকে দিচ্ছে। পাশাপাশি গাজাকে “ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা দিয়ে ভুলে যাওয়ার” চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সূত্র: আল জাজিরা
ইরানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব পৌঁছে দিল পাকিস্তান
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত একটি যুদ্ধবিরতির নথি ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের বিভিন্ন সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।
আল-জাজিরার প্রতিবেদক ওসামা বিন জাভাইদ বলেন, ‘আমরা এখন নিশ্চিত করতে পারি যে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাকিস্তানকে দেওয়া একটি নথি তারা ইরানিদের কাছে উপস্থাপন করেছেন বলে পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সূত্রগুলো আল-জাজিরাকে জানিয়েছেন। এখন তারা এর জবাবের অপেক্ষায় আছেন।’
এদিকে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা চলছে। তবে ইরান সরকার জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো আলোচনার বিষয়ে তারা এখন পর্যন্ত অবগত নয়।
এই পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের ভূমিকা আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে আলোচনা পরিচালনা করছেন: ইসরায়েল
ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী নির বারকাত বলেছেন, তিনি বিশ্বাস করেন ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে ইরানের সঙ্গে চলমান পরিস্থিতি পরিচালনা করছেন। যদিও আলোচনার বাস্তবতা নিয়ে কিছুটা বিতর্ক রয়েছে।
বারকাত ইসরায়েলি পাবলিক ব্রডকাস্টার কান নিউজকে তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি হলে তা এমন হতে হবে যাতে তেহরানের কাছে কোনো সক্ষমতা অবশিষ্ট না থাকে এবং সুবিধা সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষেই থাকে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প একদিকে তাদের সঙ্গে আলোচনায় রয়েছেন। অন্যদিকে, গালফে বাহিনী সরাচ্ছেন।
এদিকে, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরে ইসরায়েল ইলেকট্রিক করপোরেশন জানিয়েছে, হাদেরায় অবস্থিত প্রধান বিদ্যুৎ স্থাপনায় কোনো অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় সময় বুধবার সকালে একটি ইরানি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হাদেরা শহরের কাছে পড়ার পর কোম্পানিটি জানিয়েছে যে তাদের বিদ্যুৎ স্টেশন এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো নিরাপদ আছে এবং কোনো গুরুতর ক্ষতি হয়নি।
প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ক্ষেপণাস্ত্রটি হাদেরার কাছে আছড়ে পড়ে, যেখানে ইলেকট্রিক করপোরেশন দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা করে, তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে অবকাঠামো অক্ষত রয়েছে।
সুত্র: আল-জাজিরা
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত গোটা বিশ্বের জন্য অশানি সংকেত: জাতিসংঘ

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক ও অনিশ্চিত’ পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।
সংস্থাটির মানবাধিকারবিষয়ক প্রধান ভল্কার তুর্ক বুধবার এক সতর্ক বার্তায় বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে অস্থিতিশীল করে তোলার মতো সক্ষমতা রাখে।
তিনি বলেন, ‘এই সংঘাতের এমন ক্ষমতা রয়েছে যা সীমান্ত পেরিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে জড়িয়ে ফেলতে পারে, যা নজিরবিহীন। যুদ্ধে জড়িত দুটি দেশকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো যায়, তবে গোটা বিশ্বকে কিভাবে শান্ত করবেন? কে কাকে সংযত থাকতে বলবে? কে কার কথা গুরুত্ব দেবে?’
প্রায় এক মাস ধরে চলা যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো এরইমধ্যে ‘নিয়ন্ত্রণহীন বিপর্যয়ের’ কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলেও মনে করেন জাতিসংঘের এই প্রতিনিধি।
জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ইরান যুদ্ধে গোটা অঞ্চলজুড়ে শিশুসহ দুই হাজারের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে, আহত হয়েছেন কয়েক হাজার।
সেইসঙ্গে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় হিমশিম খাচ্ছে বহু দেশ। তেলের রিজার্ভ দেশীয় বাজারে ছেড়ে আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে অনেক দেশ।
তবে এসবই সাময়িক সমাধান বলে মনে করেন ভলকার তুর্ক। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার একমাত্র উপায় হিসেবে তিনি ‘যুদ্ধ বন্ধের’ ওপর জোর দেন।
ভলকার তুর্কের ভাষায়, ‘এই বিপর্যয় ঠেকানোর একমাত্র নিশ্চিত পথ হলো সংঘাতের অবসান। আমি সব দেশকে, বিশেষ করে যাদের প্রভাব রয়েছে, তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করার আহ্বান জানাচ্ছি।’
সুত্র: আল-জাজিরা


