মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার প্রভাবে দেশের উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জ্বালানি জেট ফুয়েলের দাম এক মাসের মধ্যে দ্বিতীয়বার বাড়ানো হয়েছে। মাসের শুরুতে প্রতি লিটারে দাম বেড়েছিল ১৭ টাকা, এবার বেড়েছে ৯০ টাকা।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জেট ফুয়েলের নতুন মূল্য ঘোষণা করেছে।
বিইআরসি গত বছরের মে মাস থেকে প্রতি মাসে একবার করে জ্বালানির দাম সমন্বয় করে আসছিল। এ মাসে প্রথমবারের মতো এক মাসে দুই দফায় দাম সমন্বয় করা হলো, এবং দ্বিতীয় দফায় মূল্য প্রায় ৮০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিইআরসি জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে যাওয়াই এবার দাম সমন্বয়ের মূল কারণ।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল মিলে ইরানে হামলা চালিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত করে। এরপর ইরান ওই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে প্রতিহামলা শুরু করলে তেলসম্পদে সমৃদ্ধ অঞ্চল জুড়ে সংঘাত বিস্তৃত হয়। দুই পক্ষই প্রধানত জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে নিয়েছে। এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালি অবরোধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়।
বিইআরসি জানায়, নতুন দাম দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হবে। দেশের অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য জেট ফুয়েলের লিটার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা।
এর আগে দাম ছিল ১১২ টাকা ৪১ পয়সা, এবং মাসের শুরুতে তা ৯৫ টাকা ১২ পয়সা ছিল। ফলে এ মাসে প্রতি লিটার জ্বালানির দাম বেড়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য লিটার মূল্য দশমিক ৭৪ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১ দশমিক ৩২ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
আগে জেট ফুয়েলের দাম নির্ধারণ করত বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। তবে নির্বাহী আদেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মতো জ্বালানি মূল্য নির্ধারণের ধারা বাতিল করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ফার্নেস অয়েল ও জেট এ–১-এর মূল্য নির্ধারণের দায়িত্ব বিইআরসিকে দেওয়া হয়।


