রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে আব্দুল কাইয়ুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
শুক্রবার ঢাকার অপরাধ, তথ্য ও প্রসিকিউশন বিভাগ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশনস) খালেদ হাসান তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। শুনানি শেষে ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলম এ আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্রদল, যুবদল, কৃষকদলসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন।
বিবরণে আরও বলা হয়, ওই সময় গ্রেপ্তার আসামি খায়রুল হকের উসকানিতে আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাতনামা প্রায় দুই হাজার ব্যক্তি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা আগ্নেয়াস্ত্র ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে মিছিলকারীদের ওপর হামলা চালায়।
পরে বিকালে কাজলা পুলিশ বক্সের সামনে শান্তিপূর্ণ মিছিলে গুলি চালানো হলে আব্দুল কাইয়ুম বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাকে উদ্ধার করে সালমান ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় পরে যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মধ্য দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়, যার পরিণতিতে দেশে রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পরে খায়রুল হককে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পরে তাকে যুবদল কর্মী আব্দুল কাইয়ুম হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া এবং জাল রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন।
একই অভিযোগে তার বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া, বিধিবহির্ভূতভাবে প্লট গ্রহণের অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।


