শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দেশজুড়ে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটের ভোটগ্রহণ। প্রায় সব কেন্দ্রেই দেখা যাচ্ছে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন। জীবনে প্রথমবারের মতো ভোট দিতে মুখিয়ে আছে লাখো তরুণ ভোটার।
রংপুর
রংপুর বিভাগে মোট ভোটার এক কোটি ৪৭ লাখ ৫৪ হাজার ৯৯৫ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৭৩ লাখ ৪১ হাজার ২৯৮ জন এবং নারী ৭৮ লাখ ১০ হাজার ১৯ জন। বিভাগের ৩৩ টি আসনে ২৩৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে স্বতন্ত্র পদে ৩৩ জন। বাকিরা ২৯টি রাজনৈতিক দলের প্রার্থী। এরমধ্যে আটজন নারী প্রার্থী।
রংপুর লায়ন্স স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিতে এসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী রওজা বলেন, ‘ভোটার হওয়ার পর আমার একবার ভোট দেয়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রে যেতে পারি নাই। এবারের আগ্রহ টা একটু বেশি। সাতটায় ভোটকেন্দ্রে এসেছি। যদিও আমার মতে খুব যোগ্যপ্রার্থী এখানে নেই। তারপরেও যাকে ভালো মনে হয়েছে তাকে ভোট দিয়েছি। সাথে গণভোটও দিয়েছি। আমার জীবনে এটা অন্যরকম অভিজ্ঞতা।’


মাদারীপুর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুরে তিন আসনের ৩৮১ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। সকাল থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।
ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুরে জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১১লাখ ৩৫ হাজার ৫শ ৮২জন।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবি সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, এখন পর্যন্ত ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে চলছে। মাদারীপুর জেলায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ ২৫জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া
নিচ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় আসনের ৮০৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। মোট ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ১২৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসার এই পাঁচটি বাহিনী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক শারমীন আক্তার জাহান বলেন, ‘ঝুঁকির মাত্রা যাই হোক না কেন, কোনো কেন্দ্রই নিরাপত্তার বাইরে নয়। প্রতিটি কেন্দ্রে দুইজন পুলিশ সদস্য এবং ৮ থেকে ১০ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পুরো জেলাজুড়ে জালের মতো নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সুযোগ নেই।’
এবারের নির্বাচনে স্বতন্ত্রসহ মোট ৪৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

পিরোজপুর
পিরোজপুরের তিন আসনেও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ চলছে বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।
ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় জেলার সব কেন্দ্রে আট হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত আছেন। সকাল থেকে পুরুষ ভোটারের চেয়ে নারী ভোটারের উপস্থিতি বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

রাজশাহী
শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে প্রার্থী নির্বাচন ও গণভোটে ভোট দিচ্ছেন রাজশাহী জেলার বাসিন্দারা। নির্বাচনের দায়িত্বরত কর্মকর্তারা বলছেন, শীতের সকালের শুরুতে কেন্দ্রগুলোতে কিছুটা উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটারের উপস্থিতি বাড়বে।
সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকাল থেকেই ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করেছে।
রাজশাহীর ছয়টি সংসদীয় আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ বিভিন্ন দল এবং স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ৩০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

যশোর
যশোরে ভোর থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন সব বয়সী মানুষ। বিশেষ করে তরুণ ও নারী ভোটারদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।
যশোর সদর (যশোর-৩) আসনের বিভিন্ন কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণ শুরুর আগেই ভোটাররা লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন। শহরের সেবাসংঘ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, জিলা স্কুল, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ, মাহমুদুর রহমান মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং খোলাডাঙ্গা গাবতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। ভোটাররা জানিয়েছেন, কোনো ঝামেলা ছাড়াই তারা লাইনে দাঁড়াতে পেরেছেন এবং পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন।
জেলার ছয় আসনে এবার মোট ভোটার ২৩ লাখ ৩৯ হাজার।

ঝালকাঠি
ঝালকাঠির দুই সংসদীয় আসনের ভোটারদের মধ্যে চলছে ভোটের উত্তেজনা। ভোর থেকেই কেন্দ্রে উল্লেখযোগ্য ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যানুযায়ী, মোট ২৩৭টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ চলছে। জেলার মোট ভোটার পাঁচ লাখ ৯৩ হাজার ৮২৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ তিন লাখ এক হাজার ৮৭৭ জন, নারী দুই লাখ ৯১ হাজার ৯৪৫ জন এবং হিজড়া ভোটার ৪ জন।
ভোটকে ঘিরে ২৩৭টি কেন্দ্রেই সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবিসহ মোট চার হাজার ৫৭৯ জন সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনী টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে প্রস্তুত রয়েছে।


নড়াইল
শীতের সকাল উপেক্ষা করেই ভোর থেকে ভোটকেন্দ্রে হাজির হয়েছেন নড়াইলের ভোটাররা। নড়াইল-১ এবং নড়াইল-২ আসনের কেন্দ্রগুলোতে এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নড়াইলজুড়ে টহল জোরদার করেছে র্যাব, পুলিশ, বিজিবি এবং সেনাবাহিনী। ভোটকেন্দ্রগুলোতে মোতায়েন রয়েছে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরাও।



