বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমে নতুন আর্থিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য সরকার।
ডব্লিউএফপি জানায়, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য থেকে সংস্থাটি ১ দশমিক ১ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং অর্থাৎ প্রায় ১ দশমিক ৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পেয়েছে। এর আগে একই বছরে রোহিঙ্গা সংকটে ডব্লিউএফপির কার্যক্রমের জন্য যুক্তরাজ্য আরও ৮ দশমিক ৭ মিলিয়ন পাউন্ড স্টার্লিং অর্থাৎ ১১ দশমিক ৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছিল।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার ডেভেলপমেন্ট ডিরেক্টর জেমস গোল্ডম্যান বলেন, ‘রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য ডব্লিউএফপির গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য সহায়তা কার্যক্রমেকে সমর্থন অব্যাহত রাখতে পেরে যুক্তরাজ্য গর্বিত। এই সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো পুষ্টিকর খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পাবে। পাশাপাশি, স্থানীয় সরবরাহকারীদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহের মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতিকেও সরাসরি উপকৃত করবে।’
বর্তমানে ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে ডব্লিউএফপি প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। তাদের মধ্যে প্রত্যেকে মাসে ১২ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ভাতা পেয়ে থাকেন, যার মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য এবং অন্যান্য খাবার কিনতে পারেন।
এ ছাড়া পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য পুষ্টি সহায়তা, ৩ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার শিশুর জন্য স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং রোহিঙ্গা ও স্বাগতিক জনগোষ্ঠীর জন্য জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন পার্চমেন্ট বলেন, ‘মানবিক চাহিদা যখন বাড়ছে এবং অর্থায়ন কমছে, তখন যুক্তরাজ্য ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই সংহতিই রোহিঙ্গাদের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার প্রধান ভরসা।’
রোহিঙ্গা সংকটের নবম বছরেও এতে অর্থায়নের সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ডব্লিউএফপি জানায়, ২০২৬ সালে তাদের খাদ্য ও পুষ্টি কর্মসূচির জন্য প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের তহবিল ঘাটতি রয়েছে। নতুন সহায়তা না এলে চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকেই খাদ্য সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


