কক্সবাজারের টেকনাফে মানব পাচারকে কেন্দ্র করে দুই দলের মধ্যে গোলাগুলিতে এক কিশোরী নিহত হয়েছে।
প্রাণ হারানো কিশোরীর নাম সুমাইয়া আক্তার (১৭)। শুক্রবার সন্ধ্যায় টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাগরপথে মানব পাচারের উদ্দেশ্যে রোহিঙ্গাসহ কয়েকজনকে বাহারছড়ার নোয়াখালী পাহাড়ি এলাকায় জিম্মি করে রাখে একটি চক্র। তাদের উদ্ধারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে আসা ১০–১২ জন অস্ত্রধারী শুক্রবার সন্ধ্যায় মানব পাচারকারীদের আস্তানায় হামলা চালায়। এ সময় পাচারকারীরাও পাল্টা গুলি ছোঁড়ে।
দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির এক পর্যায়ে পাহাড়সংলগ্ন নোয়াখালী পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা মো. ছিদ্দিক আহমেদের বসতবাড়িতে একটি গুলি এসে লাগে। এতে তার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার বুকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হবে।’
বাহারছড়া নোয়াখালী পাড়ার ইউপি সদস্য মো. ইলিয়াছ বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে গোলাগুলি চলে। ঘটনার পর পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় বসবাসরত মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।‘
নিহত কিশোরীর বাবা মো. ছিদ্দিক আহমেদ বলেন, ‘হঠাৎ সন্ধ্যায় পাহাড়ের ভেতর থেকে ব্যাপক গোলাগুলির শব্দ শোনা যাচ্ছিল। কিছুক্ষণ পর আমার মেয়ের বুকে গুলি লাগে। গুলি লাগতেই সে মাটিতে লুটিয়ে পড়ে। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি।’
পাহাড়ে ডাকাত, মাদক ও মানব পাচারকারীরা সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি আমার মেয়ে হত্যার বিচার চাই।’


