সারা দেশের শহরে ও রাস্তার পাশে গাছ কাটতে বিশেষজ্ঞ কমিটির অনুমতি নিতে হবে, এমন রায় দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি রায়ের রিভিউ শুনানি করে বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।
গাছ টাকার প্রয়োজনীয়তা নির্ণয়ের জন্য আদালত কমিটি গঠন করে দিয়েছে। এই কমিটির অনুমোদনের পরে ঢাকাসহ জেলা ও উপজেলা শহর এবং রাস্তার পাশের কাছ কাটতে হবে।
বৃহস্পতিবার বিষয়টি টাইমস অব বাংলাদেশকে নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
দেশের তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করে মানুষের জীবন ও সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য জনস্বার্থে মানবাধিকার ও পরিবেশবাদী সংগঠন, হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ হাইকোর্টে ২০২৪ সালে একটি রিট করে।
রিটে বিভিন্ন জেলা শহর ও উপজেলায় নির্দিষ্ট একটি কমিটি গঠন করার নির্দেশনা চাওয়া হয়। শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ৭ মে আদালত ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটা কেন পরিবেশ ও মানবাধিকারের পরিপন্থী হবে না মর্মে রুল জারি করা হয়।
রুলে সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪ অনুযায়ী বপন করা গাছ না কেটে গাছের মূল্যের সমপরিমাণ টাকা কেন বপন করা ব্যক্তিদের দেওয়া হবে না এবং গাছ কাটতে হলে সকল পর্যায়ে কেন সাত সদস্যের কমিটির অনুমোদন নিতে হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়।
আদালত শুনানি শেষে রুল যথাযথ করে রায় ও নির্দেশনা দেয়। আদালত রায়ে বলে, দিন দিন তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় অধিকসংখ্যক গাছ সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। ব্যাপকভাবে গাছ কাটা হলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। যা মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারকে খর্ব করবে।
রায়ে বলা হয়, পরিবেশের ভারসাম্যের জন্য যে পরিমাণ গাছ বাংলাদেশে থাকা দরকার তা নেই এবং গাছগুলোকে রক্ষা করা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে, রায়ে এও বলা হয় যে, সরকারি প্রজেক্টের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা কার্যকরী হবে না।
আদালত রায়ে সাত দিনের মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরকে ঢাকায় গাছ কাটার অনুমতি নেওয়ার জন্য পরিবেশবাদী, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপকের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেয়।
তা ছাড়া, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে সাত দিনের মধ্যে সার্কুলার ইস্যু করে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিবেশ কর্মকর্তা, সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবিদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা সিভিল সার্জনের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করতে বলা হয়। এই কমিটি জেলা শহরে গাছ কাটার অনুমতি দেবে।
আদালত আরেক আদেশে সাত দিনের মধ্যে সকল জেলা প্রশাসকদের প্রতি সার্কুলার ইস্যু করে উপজেলা পর্যায়ে গাছ কাটার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কলেজের অধ্যক্ষ, সমাজকর্মী, পরিবেশবাদী, সমাজকল্যাণ কর্মকর্তা এবং এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করতে নির্দেশ দেয়।
এই কমিটি উপজেলা শহর পর্যায়ে গাছ কাটার অনুমতি প্রদান করবে। এ ছাড়া রায়ে আরও উল্লেখ করা হয় যে, সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০০৪-এর অধীনে রোপণ করা গাছসমূহ কাটা যাবে না বরং গাছের সমমূল্য টাকা রোপণকারী দিতে হবে। এই বিষয়ে সামাজিক বনায়ন বিধিমালায় পরিবর্তন আনতে নির্দেশনা দেয় আদালত।
আইনজীবী মনজিল মোরসেদ জানান, সরকারি প্রকল্পের জন্য গাছ কাটতে অনুমতি লাগবে না, রায়ের এই অংশটির সংশোধন এবং পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে গত বছরের ১৭ জুলাই আবেদন করা হয়েছিল।
শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত রিভিউ মঞ্জুর করেছে। ফলে সরকারি প্রকল্পের জন্য গাছ কাটতেও অনুমতি লাগবে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) মুহাম্মদ শফিকুর রহমান। রিটে বিবাদীরা হলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, জনপ্রশাসন সচিবসহ ১৫ জন।


