দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ১১ জানুয়ারি পৈতৃক ভূমি ও নিজের নির্বাচনী এলাকা বগুড়া যাচ্ছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এরপর ২২ জানুয়ারি সিলেটে হজরত শাহজালাল (র.) ও হজরত শাহ পরান (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি বিএনপির নির্বাচনী প্রচার শুরু করবেন। বিএনপির সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সূত্র জানিয়েছে, চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দলীয় শোকপালন শেষ হচ্ছে মঙ্গলবার। এরপর থেকেই পুরোদমে নির্বাচনী কার্যক্রমে মনোযোগ দেবে বিএনপি। এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটি তাদের কাজের রোডম্যাপ তৈরি করেছে।
এই রোডম্যাপ অনুসারে ২২ জানুয়ারি শুরু হবে আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার। ঐতিহ্য মেনে এবারও সিলেট থেকে প্রচার শুরু হবে। নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুসারে প্রতীক বরাদ্দের দিন ২১ জানুয়ারির পর থেকেই দল ও প্রার্থীরা প্রচার শুরু করতে পারবেন।
তবে দলের আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচার শুরুর আগেই ১১ জানুয়ারি রোববার বগুড়া যাবেন তারেক রহমান। এর আগে ২০০৬ সালের ২৪ ডিসেম্বর সর্বশেষ তিনি বগুড়া গিয়েছিলেন। এবার তিনি বগুড়া-৬ (সদর) আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে ১৯ বছর পরে তার এই সফর হলেও নির্বাচনী আইন মানার বাধ্যবাধকতায় সেখানে কোনো সভা-সমাবেশ থাকছে না।
অবশ্য নিজেদের এলাকার ছেলে তারেক রহমানকে এক নজর দেখার জন্য স্বতঃস্ফূর্তভাবেই সমাবেশ হয়ে যেতে পারে বলে বলে জানিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। বগুড়ায় এক রাত থাকবেন তারেক রহমান। পরদিন তিনি বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেসা খেলার মাঠে সদ্য প্রয়াত খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনায় গণদোয়া মাহফিলে অংশ নেবেন।
এরপর বগুড়া থেকে তার দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও হয়ে রংপুর যাওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে দিনাজপুর শহরে তারেক রহমানের নানার বাড়ি, এবার সেখান থেকে খালেদা জিয়া নির্বাচন করার কথা ছিল। এ ছাড়া তার রংপুরে জুলাই শহীদ আবু সাঈদের কবর জিয়ারতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এদিকে, এখনো বেশ কয়েকটি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়া একাধিক প্রার্থী রয়ে গেছেন। এ ছাড়া বেশ কিছু আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন দলের অনেক নেতা।
বিএনপির শীর্ষ নেতারা জানান, উত্তরবঙ্গ সফর শেষে ঢাকায় ফিরে দলের এই অভ্যন্তরীণ সমস্যা মেটাতে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ দেবেন তারেক রহমান। দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরুর আগেই দলকে ঐক্যবদ্ধ করার দিকে জোর দিচ্ছেন তিনি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছেন, নির্বাচনের যে কালো মেঘ ছিল তা ইতোমধ্যে কেটে গেছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুর শোককে শক্তিতে পরিণত করে এগিয়ে যাবে বিএনপি।
এদিকে, নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানকে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে সদস্য সচিব করে গত বৃহস্পতিবার ৪১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।
এই কমিটির প্রথম বৈঠক রোববার গুলশানের নির্বাচন পরিচালনা কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর নজরুল ইসলাম খান বলেন, নির্বাচনের দিনগুলোতে কীভাবে নেতাকর্মীরা কাজ করবে, কীভাবে প্রার্থীদেরকে সহযোগিতা করতে পারব, কীভাবে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে পারে এবং নির্বাচনী প্রচারের সময় কী কী নিদের্শনা মানতে হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।


