সুপ্রিম কোর্ট সেক্রেটারিয়েট গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের পথে যাত্রা শুরু হয়েছে। এখন বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।
তিনি বলেন, ‘আমরা সেক্রেটারিয়েট গঠনের মাধ্যমে একটি স্বাধীন বিচার বিভাগের পথে যাত্রা শুরু করেছি। এখন আমি বিচার বিভাগের সামগ্রিক উন্নয়নে অবদান রাখবে—এমন কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের ইচ্ছা পোষণ করি, বিশেষ করে জেলা পর্যায়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নে।’
রোববার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী এসব কথা বলেন। আপিল বিভাগের এক নম্বর বিচারকক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের বিচারপতি, সিনিয়র আইনজীবী ও সুপ্রিম কোর্টের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি অবশ্যই আশা করি, আমার পূর্বসূরি সৈয়দ রেফাত আহমেদের প্রণীত রোডম্যাপের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজন অনুসারে কিছু পরিবর্তন ও পরিমার্জনসহ কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে।’
বিচার অঙ্গনে আগত বিচারক, আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘আমি বারের ওপর বিশেষভাবে গুরুত্ব আরোপ করতে চাই। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনকে আহ্বান জানাই, যেন তারা আইনজীবীদের জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন করে। এই মহান পেশার মর্যাদা ও পবিত্রতা রক্ষার জন্য আমি সকল আইনজীবীর প্রতি আহ্বান জানাই।’
আদালত প্রাঙ্গণের ভেতরে ও বাইরে পেশাগত আচরণের ক্ষেত্রে আইনজীবীদের দায়িত্ব ও শালীনতার কথা স্মরণ করিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি। তিনি বলেন, দেশকে বসবাসের জন্য একটি উত্তম স্থানে পরিণত করতে আমাদের সবাইকে চেষ্টা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম শান্তি ও সমৃদ্ধির সঙ্গে এগিয়ে যেতে পারে।
আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, আদালতের মামলা জট কমাতে হলে মিথ্যা মামলা দায়ের বন্ধ করতে হবে। বিচার বিভাগকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে হবে। সিন্ডিকেট মুক্ত করতে হবে। আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রতি নতুন প্রজন্ম ও গণমানুষের যে আশা-আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তার প্রতিফলন ঘটানো অত্যাবশ্যক।
প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, ‘আমরা আশা করি, আপনি বিচার বিভাগকে প্রভাবমুক্ত করে সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচার বিভাগ নিশ্চিত করবেন। নাগরিকের সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। মামলা পরিচালনার দীর্ঘসূত্রতা দূর করবেন এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন। সমাজের সব স্তরে বৈষম্য দূর করার ব্যাপারে সচেষ্ট থাকবেন। গত ১৬ বছরের গুম, হত্যা ও মিথ্যা মামলার বিষয়গুলো আপনি আমলে নেবেন।’
তিনি আরও বলেন, বিচার বিভাগের যেকোনো সিন্ডিকেট বন্ধ করতে হবে, দুর্নীতি বন্ধ করতে হবে। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে নতুনভাবে দেশ গড়ার প্রত্যয় এবং বিচার বিভাগ সংস্কারের মধ্য দিয়ে যে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথে বাংলাদেশ হাঁটছে, সেই যাত্রায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিকে সব সময় আপনার পাশে পাবেন।
এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগের শাসনামলে বিচার বিভাগে সুবিচারের পরিবর্তে অবিচারই প্রাধান্য পেয়েছিল। সে সময় বিচার বিভাগকে দলীয়করণ করা হয়। বিচার বিভাগ অনেক ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। বিচার বিভাগ অত্যাচারিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ব্যর্থ হয়েছে।
আরশাদুর রউফ বলেন, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার সর্বশেষ ও নিরাপদ আশ্রয়স্থল হলো আদালত। এ কারণেই জুডিশিয়াল রিভিউয়ের ক্ষমতা উচ্চ আদালতের কাছে ন্যস্ত করা হয়েছে। কিন্তু বিগত স্বৈরশাসনের সময়ে সেখানে অসহায় মানুষের ঠাঁই হয়নি।


