বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ কার্যকর করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অধ্যাদেশটির গেজেট প্রকাশ হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই সংশোধিত আইনের মূল লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনস্বাস্থ্য রক্ষা করা।
সংশোধিত আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে ই-সিগারেট, ভ্যাপ, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট এবং নিকোটিন পাউচসহ সব ধরনের উদীয়মান পণ্য তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে গণ্য হবে। এসব আধুনিক তামাকপণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ৬ মাস কারাদণ্ড এবং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি বিড়ি উৎপাদন সংক্রান্ত পুরোনো বিধান বাতিল করে সংশোধিত আইনের আওতায় কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়িও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনের সংজ্ঞা আরও প্রসারিত করে সেখানে ধূমপান ও তামাক ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আগে এই নিয়ম ভাঙলে ৩০০ টাকা জরিমানার বিধান থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে দুই হাজার টাকা করা হয়েছে। এছাড়া তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ছোবল থেকে বাঁচাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ ও শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন ও প্রচারণার ক্ষেত্রেও আনা হয়েছে কঠোর বিধিনিষেধ। এখন থেকে প্রিন্ট বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ার পাশাপাশি ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকের কোনো বিজ্ঞাপন দেওয়া যাবে না। এমনকি বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা এবং সিএসআর কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো ব্যবহার বা আর্থিক সহায়তা প্রদানও আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
ভোক্তাদের সচেতন করতে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ স্থানজুড়ে রঙিন ছবিসহ স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং ছাড়া কোনো পণ্য বাজারে বিক্রি করা যাবে না। তামাকের সঙ্গে ক্ষতিকর কোনো আসক্তিমূলক দ্রব্য মেশানোও এখন থেকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে জরিমানা ও কারাদণ্ডের পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির লাইসেন্স বাতিল ও মালামাল জব্দের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।


