মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় দুই ভাইয়ের পারিবারিক ঝগড়া থামাতে গিয়ে এলোপাতাড়ি কোপের আঘাতে মারা গেছেন জান্নাত হোসেন (২৭) নামে এক যুবক।
তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, বাড়ি থেকে কৌশলে ডেকে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের পরিবার দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিহত জান্নাত হোসেন গজারিয়া ইউনিয়নের নয়ানগর গ্রামের আব্দুল হকের ছেলে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, স্থানীয় শাহীন রাঢ়ীর তিন ছেলে–তারেক (৩২), রিয়াদ (২৭) ও তাজবির (২২)। এর মধ্যে তারেক ও রিয়াদ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী বলে এলাকায় পরিচিত। প্রায় তারা নিজেদের মধ্যে মারামারি ও ঝগড়া লেগে থাকে।
শনিবার সকালে তারেক ও রিয়াদের মধ্যে ঝগড়া শুরু হলে তারেকের মা তাসলিমা বেগম প্রতিবেশী জান্নাত হোসেনকে ডেকে নিয়ে যান বিষয়টি মীমাংসার জন্য।
ওই সময় দুই ভাইয়ের হাতেই ধারালো রামদা ছিল। ঝগড়ার এক পর্যায়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয় জান্নাতকে।
নিহতের মা জাহানারা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমার ছেলে ঘরে ঘুমিয়ে ছিল। তাসলিমা এসে তাকে ডেকে নিয়ে যায়। আমি পেছনে পেছনে যাই। ঘরে ঢোকার আগে ওরা দা দিয়ে ছেলেকে কুপাতে শুরু করে। আমার ছেলে শুধু আমার দিকে তাকিয়ে ছিল। এই শোক আমি কীভাবে সহ্য করব?’
নিহতের বড় ভাই রাজু অভিযোগ করে বলেন, ‘বাড়ির সীমানা নিয়ে আগে থেকে ওদের সঙ্গে আমাদের বিরোধ ছিল। জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখল করে ঘর তুলেছে। ভাইকে যখন কোপানো হচ্ছিল, তখন তারা কাউকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি।’
এ বিষয়ে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মারিয়া মোস্তারি বলেন, ‘সকাল ১১টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। হাসপাতালে আনার আগে তার মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।’
গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. হাসান আলী বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


