পুরান ঢাকার সাদাফ ট্রেডিংয়ের পক্ষে পাকিস্তান থেকে ভেজিটেবল ফ্যাট আমদানির জন্য বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেছিল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট এন এম ট্রেডার্স। গত ২ নভেম্বর এই বিল অব এন্ট্রি দেওয়া হয়।
তবে ৭ নভেম্বর কায়িক পরীক্ষায় ধরা পড়ে, ভেজিটেবল ফ্যাটের নামে আদতে আমদানি করা হচ্ছিল উচ্চমূল্যের ফেসিয়াল ক্রিম। যার মাধ্যমে প্রায় ৯ কোটি ৫৪ লাখ টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল বলে ধরা পড়ে কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস হাউসের চোখে।
সংশ্লিষ্ট কাস্টমস কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ৫ হাজার প্যাকেটে ছিল ২৪ হাজার কৌটা ফেসিয়াল ক্রিম। যেগুলোকে কাগজপত্রে দেখানো হয়েছিল ভেজিটেবল ফ্যাট হিসেবে।
এর আগে গত ৪ নভেম্বর সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল চালানটি আটকাতে কাস্টমসে চিঠি পাঠায়। যার ভিত্তিতে কাস্টমস কমিশনার এসব পণ্য খালাসের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দেন এবং ৭ নভেম্বর ডিপো কর্তৃপক্ষ ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা করেন।
ঘোষণায় পণ্যের এইচএস কোড ১৫১৬.২০.০০০০, ওজন ২৪ হাজার কেজি এবং প্রতি কেজির দাম ১ দশমিক ১ ডলার দেখানো হয়। যার ভিত্তিতে শুল্ককর দাঁড়ায় মাত্র ১৩ লাখ ১ হাজার ২৫৬ টাকা।
কিন্তু কায়িক পরীক্ষায় দেখা যায়, পুরো চালানই ফেসিয়াল ক্রিমের। সেখানে ভেজিটেবল ফ্যাটের কিছু নেই। যে ক্রিমের এইচএস কোড ৩৩০৪.৯৯.১০। আর এই কোড অনুযায়ী ট্যারিফ ভ্যালু প্রতি কেজি ২০ ডলার এবং সর্বমোট ট্যাক্স ইনসিডেন্স ১৬২ দশমিক ৫৫ শতাংশ। সে হিসেবে প্রকৃত শুল্ককর দাঁড়ায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭১২ টাকা।
বিষয়টি নিশ্চিত হতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাসায়নিক পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হয়েছিল। সেখানেও পণ্যটি ফেসিয়াল ক্রিম হিসেবে প্রমাণিত হয়।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবেন তারা। পাশাপাশি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ও তাদের এজেন্টকে কারণ দর্শাতেও বলা হয়েছে।
সেখানে কলা হয়, মিথ্যা ঘোষণা কাস্টমস আইন ২০১৯-এর ধারা ১৫ ও ৫৮ অনুযায়ী অপরাধ, যা ধারা ১৬(১)-এ দণ্ডনীয়। কেন আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে না এবং কেন আমদানিকারকের বিআইএন নম্বর নজরদারিতে রাখা হবে না, তা সাত কার্যদিবসের মধ্যে জানাতে হবে।
আমদানিকারকের এজেন্ট মো. রফিক টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাসায়নিক পরীক্ষায় যা প্রমাণিত হবে, তার বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। তবে এর আগেও একই পণ্য বিএসটিআই পরীক্ষার ভিত্তিতে ভেজিটেবল ফ্যাট হিসেবে শুল্কায়ন হয়েছিল।’
কাস্টমস আইন অনুযায়ী মিথ্যা ঘোষণা একটি গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি পণ্যমূল্যের সমপরিমাণ জরিমানা থেকে কারাদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
কমলাপুর আইসিডি কাস্টমস হাউজের কমিশনার নাহিদা ফরিদী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘মিথ্যা ঘোষণায় আসা চালান ঠেকাতে আমরা সব সময় সতর্ক। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় অনেক চালান আলাদাভাবে নজরদারিতে রাখা হয়।’


