পুলিশের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করতে এলে গুলির নির্দেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।
রোববার বিকালে বেতার বার্তায় কমিশনার এমন নির্দেশ দেন বলে জানিয়েছেন ডিএমপির অপরাধ বিভাগের একজন উপকমিশনারসহ তিনজন কর্মকর্তা। তবে তারা নাম প্রকাশ করতে চাননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘ওয়্যারলেসে বলেছি যে কেউ বাসে আগুন দিলে, ককটেল মেরে জীবনহানির চেষ্টা করলে তাকে গুলি করতে। এটা আমাদের আইনেই বলা আছে।’
দণ্ডবিধির বই থেকে ৯৬ থেকে ১০৬ ধারাগুলো বের করে ডিএমপি কমিশরার দেখান যে, সেখানে আত্মরক্ষার ব্যক্তিগত অধিকারের কথা বলা হয়েছে।
ওই ধারা অনুযায়ী, ‘ব্যক্তিগত প্রতিরক্ষার অধিকার প্রয়োগকালে কৃত কোনো কিছুই অপরাধ নহে।’
তিনি এমন সময় এ নির্দেশনা দিলেন, যখন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের খবর আসছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে, এসব ঘটনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়িত।
এর আগে, গত মঙ্গলবার ওয়্যারলেস সেটে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক মৌখিক আদেশে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ আগ্নেয়াস্ত্র বহনকারী এবং অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের দেখামাত্র এবার ব্রাশফায়ার করে হত্যার নির্দেশ দেন।
সে সময় তার এ বক্তব্য বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়।
সিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী-অপরাধী আবার চট্টগ্রামকে অন্ধকার জাহেলিয়াতের যুগে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এটা আমরা হতে দেব না। তার জন্য অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী কয়েকটাকে যদি মেরে ফেলতে হয়, মেরে ফেলব; কিন্তু অন্ধকারের যুগে, জাহেলিয়াতের যুগে, চট্টগ্রামকে আর ফিরতে দেওয়া হবে না। সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে চট্টগ্রাম আবার পরিণত হবে না। এটাই আমার নির্দেশ। এজন্য যা যা করণীয় আমরা সবই করব।’
সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কয়েক দফায় সিএমপি কমিশনার বেতার বার্তায় নির্দেশনা দেন। যেখানে সিএমপি কমিশনার বলেছেন, ‘শটগান হবে না, চায়না রাইফেলও বাদ, এখন এসএমজি ব্রাশফায়ার মুডে থাকবে।’


