সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সেলিম প্রধানের ৩ দিনের রিমান্ড

সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় সেলিম প্রধানের ৩ দিনের রিমান্ড
সেলিম প্রধানকে আদালতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

ক্যাসিনোকাণ্ডে আলোচনায় আসা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের মিছিলে অর্থ জোগানদাতা হিসেবে গ্রেপ্তার সেলিম প্রধানের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

সোমবার শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হারুনুর রশিদ এ তথ্য জানান। এদিন তাকে আদালতে হাজির করা হয়।

আইনজীবী হারুনুর রশিদ বলেন, ‘মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের পরিদর্শক মোজাম্মেল হক মামুন তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সেলিম প্রধানের আইনজীবী রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২২ এপ্রিল সকালে গুলশান-১-এর জব্বার টাওয়ারের পাশে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানারে ৩০ থেকে ৩৫ জন বিক্ষোভ মিছিল করেন। আসামিরা দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশে বিভিন্ন স্লোগান দেয়।

পুলিশ সেখানে গিয়ে কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। কয়েকজন পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় পুলিশ ওইদিনই গুলশান থানায় মামলা করে।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মামলা সংক্রান্তে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করেন সেলিম প্রধান। আসামি ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িতদের অর্থ জোগান দিয়ে থাকেন বলেন তথ্য পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

গত ৫ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গুলশানের বারিধারার নেক্সাস ক্যাফে প্যালেস থেকে সেলিম প্রধানসহ নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখান থেকে ৬ দশমিক ৭ কেজি সীসা উদ্ধারের কথাও জানায় পুলিশ।

এ ঘটনায় গুলশান থানার উপপরিদর্শক মাহমুদুল হাসান মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এ মামলায় ২০ অক্টোবর তিনি জামিন পান। তবে এর পরই সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোয় সেলিম প্রধান আর মুক্তি পাননি।

২০১৯ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সেলিম প্রধানকে আটকের পর ঢাকায় তার গুলশান-বনানীর বাসা ও অফিসে অভিযান চালায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। ওই অভিযানে ২৯ লাখ টাকা, বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ ও বিভিন্ন দেশের মুদ্রা জব্দ করা হয়।

ওই বাসায় দুটি হরিণের চামড়া পাওয়ায় সেলিম প্রধানকে বন্য প্রাণী সংরক্ষণ আইনে তাৎক্ষণিকভাবে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত।

পরদিন গুলশান থানায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ আইনে দুটি মামলা করে র‌্যাব। আর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পরে অবৈধ সম্পদের আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে। দুদকের ওই মামলায় তার আট বছরের কারাদণ্ড হয়।

চার বছর কারাগারে থাকার পর ২০২৩ সালের অক্টোবরে জামিনে মুক্তি পান সেলিম প্রধান।

কয়েক মাস বাদে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তবে ফৌজদারি মামলায় দণ্ডিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তার প্রার্থিতা বাতিল হয়ে যায়।

পটপরিবর্তনের পর গত জুনে আত্মপ্রকাশ করা বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টির (বিআরপি) প্রধান উপদেষ্টা হন সেলিম প্রধান।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad