ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভাসমান দোকান উচ্ছেদ অভিযানে সহিংসতা, হকারদের ওপর হামলা ও শিক্ষার্থী হয়রানির প্রতিবাদ করেছে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোট।
মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সমালোচনাও করেন সংগঠনের নেতারা।
তারা অভিযোগ করেন, ২৫ অক্টোবর থেকে ডাকসুর উদ্যোগে পরিচালিত অভিযানে হকারদের শারীরিকভাবে নির্যাতন, দোকান ভাঙচুর, মালামাল জব্দ এবং নারী হকারদের লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটেছে।
এসব পদক্ষেপ ডাকসুর এখতিয়ার বহির্ভূত ও ফৌজদারি অপরাধের শামিল বলেও অভিযোগ তাদের।
ছাত্র জোটের দাবি, অতীতে প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানের পর আবারও দোকান বসার সুযোগ দিয়েছে। প্রক্টোরিয়াল টিমের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ থাকলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
সাম্প্রতিক অভিযানে হকারদের ওপর হামলার প্রতিবাদ জানানো বামপন্থী শিক্ষার্থীদের ‘উসকানিদাতা’ হিসেবে দায়ী করে ডাকসু নেতৃত্ব ফ্যাসিবাদী আচরণ প্রদর্শন করেছে বলে মন্তব্য করেন তারা।
তারা বলেন, উচ্ছেদ হওয়া দোকানগুলো সাধারণ চা, ফাস্টফুড, ফুল ও অলঙ্কারের ব্যবসা ছিল, যাদের সঙ্গে মাদক বাণিজ্যের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কর্মসংস্থানের বিকল্প না দিয়ে উচ্ছেদ সমাধান নয় বরং সংকট আরও বাড়াবে।
সংবাদ সম্মেলনে এক রিকশাচালককে মারধর ও শিক্ষার্থীর ফোন তল্লাশির ঘটনায় প্রক্টোরিয়াল টিমের ভূমিকা ‘বেআইনি’ ও ‘গোপনীয়তা লঙ্ঘনের উদাহরণ’ বলে দাবি করা হয়।
এ সময় নারী হয়রানির অভিযোগ প্রতিরোধে কার্যকর কমিটি না থাকায় ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে বলেও মন্তব্য করেন উপস্থিত সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্র জোট হামলা ও নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্ত, ক্ষতিপূরণ, বাজেয়াপ্ত মাল ফেরত, ভ্রাম্যমাণ জনগোষ্ঠীর পুনর্বাসন, মাদক সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি তদন্তসহ ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস চার্টার’ প্রণয়নের দাবি জানায়।
সংগঠনটির নেতারা বলেন, ‘ডাকসু নেতাদের ফ্যাসিবাদী কর্মকাণ্ড শিক্ষার্থীরা চিহ্নিত করবে এবং প্রত্যাখ্যান করবে।’


