দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায়: বিকেএমইএ সভাপতি

দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায়: বিকেএমইএ সভাপতি
বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

গত কয়েক মাস ধরে দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক ধারায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্কহার বৈশ্বিক রপ্তানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। যার প্রভাব যুক্তরাষ্ট্রের বাজারেও পড়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশের নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম।

রোববার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি গন্তব্যসমূহে উল্লেখযোগ্যভাবে চাহিদা কমে যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন শুল্ক আরোপের কারণে ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো সেখানে রপ্তানি করতে পারছে না। ফলে তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানির জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ হাতেম।

তিনি বলেন, এসব দেশ ইউরোপীয় বাজারে কম দামে পোশাক সরবরাহ করে অর্ডার নিচ্ছে। এতে একই ধরনের পণ্যে বাংলাদেশি রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমছে।

মোহাম্মদ হাতেম বলেন, ‘প্রশ্ন আসতে পারে-তারা কীভাবে কম দামে রপ্তানি করতে পারছে?- এর মূল কারণ হলো, ভারত সরকার মার্কিন শুল্কজনিত ধাক্কা সামাল দিতে তাদের ব্যবসায়ীদের জন্য একের পর এক প্যাকেজ সহায়তা দিচ্ছে। গত সপ্তাহেই এমন একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি শনিবারও ভারত সরকার সাত হাজার কোটি রুপির একটি নতুন প্যাকেজ অনুমোদন দিয়েছে।’

আরও পড়ুন

অন্যদিকে, বাংলাদেশের চিত্র ভিন্ন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষ্যমতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কর্মসূচি ও এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের যুক্তি দেখিয়ে সরকার রপ্তানি খাতের নগদ সহায়তাসহ বিভিন্ন সুবিধা প্রত্যাহার করে নিয়েছে। যে সামান্য সহায়তা অবশিষ্ট ছিল, তার মেয়াদও গত ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়ে গেছে।

“আমরা সেই সহায়তা নবায়নের জন্য সরকারের কাছে অনুরোধ জানিয়েছি। এটি রপ্তানিকারকদের টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত জরুরি। অন্যথায় রপ্তানি বাণিজ্য মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হবে’, যোগ করেন বিকেএমইএ’র সভাপতি।

তিনি আরও বলেন, এরই মধ্যে দেশের একের পর এক স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অনেক গার্মেন্টস কারখানার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, যা রপ্তানি খাতের জন্য অশনিসংকেত।

এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের আগে সাধারণত রপ্তানি আদেশ কিছুটা কমে যাওয়ার প্রবণতা রয়েছে বলেও জানান মোহাম্মদ হাতেম।

তবে, নির্বাচনের পর সরকার যদি শিল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে আগামী জুনের পর থেকে রপ্তানি আবার ইতিবাচক ধারায় ফিরতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad