৫ শিক্ষার্থী উদ্ধারে অভিযান চলছে: সেনা সদর

৫ শিক্ষার্থী উদ্ধারে অভিযান চলছে: সেনা সদর
বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে প্রেস ব্রিফিংয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

খাগড়াছড়িতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অপহৃত পাঁচ শিক্ষার্থীকে উদ্ধারে অভিযানে নেমেছে সেনাবাহিনী।

বৃহস্পতিবার ঢাকা সেনানিবাসে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য বলা হয়।

সেনাসদরের মিলিটারি অপারেশনস ডিরেক্টরেটের স্টাফ কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই মুহূর্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ভালো, পাঁচজনকে ধরার কারণে নিরাপত্তার কোনো ব্যাঘাত হয়নি, নিরাপত্তা আরও জোরালো হচ্ছে। সেখানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে বেড়িয়ে চট্টগ্রামে ফিরছিলেন। তারা দিঘীনালা হয়ে খাগড়াছড়ি সদরে যান। বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে খাগড়াছড়ি সদরের গিরিফুল এলাকা থেকে তারা অপহরণের শিকার হন। এ ঘটনায় পাহাড়ের সংগঠন ইউপিডিএফকে দায়ী করা হলেও তারা তা অস্বীকার করেছে।

ঢাকা সেনানিবাসের প্রেস ব্রিফিংয়ে খাগড়াছড়ির ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরা হয়। চলমান যৌথ অভিযান বিষয়েও তথ্য তুলে ধরা হয় ব্রিফিংয়ে।

জেলেদের অপহরণ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘নাফ নদীতে জেলেদের যে অসুবিধা হচ্ছে, এটা নিয়ে আমাদের প্রাথমিকভাবে কোস্টগার্ড ও বর্ডারগার্ড কাজ করছে, এটা চলমান আছে। অনেক জেলে এই পর্যন্ত চলে আসছে, বাকিদের বিষয়ে এখনও আলোচনা চলমান আছে। আমরা আশাবাদী খুব শিগগির এই বিষয়ে সমাধান হবে।’

আরও পড়ুন

দেশের বিরাজমান পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী সার্বভৌমত্ব রক্ষায়, জনগণের জানমাল ও রাষ্ট্রের গুরুত্তপূর্ণ স্থাপনার নিরাপত্তা প্রদানসহ সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে বলে জানান কর্নেল শফিকুল।

তিনি বলেন, ‘ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার প্রয়োগ করে গত দুই মাসে সেনাবাহিনী বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর সাথে সমন্বিত উদ্যোগে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সাথে সম্পৃক্ত মোট ২ হাজার ৪৫৭ জনকে এবং এ যাবৎ প্রায় ৮০০০ জনকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করেছে। যাদের মাঝে কিশোর গ্যাং তালিকাভুক্ত আসামি, অপহরণকারী, চোরাচালানকারী, প্রতারক, দালালচক্র, চাঁদাবাজ ডাকাত ও ছিনতাইকারী আছে। এ সময়ে ৩২০টি অবৈধ অস্ত্র, ৫৬৪ রাউন্ড গোলাবারুদ এবং এ যাবৎ প্রায় ৯ হাজারের বেশি অবৈধ অস্ত্র, ৩ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার হয়েছে।’

‘তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা কমাতে সহায়তা করাসহ সেনা সদস্যরা শিল্পাঞ্চল ছাড়াও গত দুই মাসে ২৩২টি বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। এর মধ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত ঘটনা ছিল ৩৭টি, সরকারি অফিস সংক্রান্ত ২৪টি, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ৭৬টি এবং অন্যান্য ঘটনা ছিল ৯৫টি।’

যৌথ অভিযান শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৮০০০ জন গ্রেপ্তার, ৯০০০ এর বেশি অবৈধ অস্ত্র ও ৩ লাখ রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

মার্চ ফর গাজা ইস্যুতে জঙ্গিরা পতাকা নিয়ে মিছিল করেছে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সেখানে কালো পতাকাধারীদের সেনাবাহিনী রোধ করেছে। আসলে কালো পতাকাধারী হলেই যে জঙ্গি, এটার কোনো প্রমাণ আমরা পাইনি। তবে এই ব্যপারে সেনাবাহিনী সোচ্চার আছে। গোয়েন্দাবাহিনীও এই ব্যপারে তৎপর আছে।’

শফিকুল ইসলাম মিয়ানমারের ভূমিকম্পে সশস্ত্র বাহিনীর জরুরি উদ্ধারকাজে সহায়তার বিষয়টিও ব্রিফিংয়ে তুলে ধরেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad