ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেলে কার্যনির্বাহী সদস্য পদে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন সর্ব মিত্র চাকমা। তিনি ৮, ৯৯৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।
বুধবার সকালে সিনেট ভবনে ডাকসুর চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. মো. জসীম উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন।
এই নির্বাচনে ভিন্ন ভাষাভাষী দুজন শিক্ষার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে সর্বমিত্র একজন। বাঙালি মুসলিম না হয়েও শিবিরের প্যানেলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে প্রথম থেকেই আলোচনায় ছিলেন তিনি।
এদিকে, ডাকসু নির্বাচনে কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পাহাড়িদের মধ্যে আলোচিত সুর্মী চাকমা জয়ী হতে পারেননি।
পরাজয়কে মেনে নিয়ে বুধবার সকাল ১০টায় ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘৪,৪৮২ টা ভোট কম নয় অবশ্যই! এই ৪,৪৮২ জন শিক্ষার্থী যে আমার প্রতি আস্থা রেখেছিল তাদের প্রতি আমার কৃতজ্ঞতা। বিজয়ী হতে না পারি কিন্তু কাজ চলমান থাকবে।’

ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) পদে শিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১৪, ০৪২ ভোট, যেখানে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছাত্রদলের আবিদুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫,৭০৮ ভোট।
তবে নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছেন ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান ও শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের ভিপি প্রার্থী উমামা ফাতেমা। এ ছাড়া আব্দুল কাদেরও নির্বাচনের ব্যাপক সমালোচনা করে কারচুপির অভিযোগ এনেছেন।
মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ক্যাম্পাসের আটটি কেন্দ্রের ৮১০টি বুথে বিরতিহীনভাবে ভোট গ্রহণ করা হয়। এ সময় আচরণ বিধিলঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ওঠে বিভিন্ন প্যানেলের পক্ষ থেকে।
এবার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৯ হাজার ৮৭৪ জন। পাঁচ ছাত্রী হলে ১৮ হাজার ৯৫৯ ভোটের বিপরীতে ১৩ ছাত্র হলে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৯১৫ জন।
ডাকসুতে ২৮টি পদের জন্য মোট ৪৭১ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। প্রতি হল সংসদে ১৩টি করে ১৮টি হলে মোট পদের সংখ্যা ২৩৪টি। এসব পদে ভোটের লড়াইয়ে ছিলেন ১,০৩৫ জন। সব মিলিয়ে এবার ভোটারদের ৪১টি ভোট দিতে হয়।


