সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনের অভিযোগ উঠেছে। গাছের চারার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ডাল পুঁতে বৃক্ষরোপণ করানো হয়। এ ঘটনায় পিরোজপুরের কাউখালীর ১৪ নম্বর মধ্য সোনাকুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শ্যামল চন্দ্র হালদারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোল্লা বক্তিয়ার রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশটি ৬ আগস্ট প্রকাশ করা হয়। বিষয়টি মঙ্গলবার রাতে নিশ্চিত করেন কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম।
অফিস আদেশে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি বিদ্যালয়ের আঙিনায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণের নির্দেশনা ছিল। গত ১৫ জুলাই ওই কর্মসূচি পালনের কথা ছিল।
তবে শ্যামল চন্দ্র হালদার শিক্ষার্থীদের দিয়ে চারার পরিবর্তে গাছের ডাল রোপণ করান। পরে সেই ছবি শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে আপলোড করেন।
অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ জুলাই কাউখালী উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সরেজমিন তদন্ত করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। পরে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। তবে বরখাস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি।
এদিকে একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিলন কৃষ্ণ পালের বিরুদ্ধে চরিত্র হনন ও নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ করেছেন নারী সহকর্মী ফেরদৌসী আক্তার। তিনি বিভিন্ন দপ্তরে প্রতিকার চেয়েছেন।
ফেরদৌসী আক্তার বলেন, ‘আজ ডিপিও স্যার তদন্ত করেছেন। দেখি কী হয়, পরে বিস্তারিত জানাব।’
কাউখালী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. অহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে ১৯ জুলাই সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। নারী শিক্ষকের অভিযোগও তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


