জাতীয় সংসদে ৫০ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধিত্ব কেন রাখা হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। জাতীয় সংসদে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ জন বা ১৫১ জন কেন নারী প্রতিনিধিত্ব থাকবে না, আমি সেই প্রশ্ন রেখে গেলাম।’
রোববার বিকালে গুলশানের একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই অভ্যুত্থান এবং নারীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে খান ফাউন্ডেশন।
নিজের বক্তব্যে মঈন খান বলেন, ‘দেশে প্রায় ৪০ লাখ নারী শ্রমিক আছেন যারা গামেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করে অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছেন। বাংলাদেশে নারীরা অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এটা আমি শুনতে চাই না। আমি শুনতে চাই , বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকের চেয়ে বেশি নারী। তাহলে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫০ জন বা ১৫১ জন কেন নারী প্রতিনিধি থাকবেন না? আমি এই প্রশ্ন রেখে গেলাম।’
‘অনেকই হয়তো বলবেন এটা অবান্তর, অবাস্তব। আমরা যদি মানসিক অবস্থা, সমাজ ব্যবস্থা যদি পরিবর্তন করতে না পারি তাহলে কিন্তু নারীর মুক্তি, নারীর সমতার আন্দোলন এসব সেমিনার করে লাভ হবে না। আমদের অন্তর থেকে নারীর জন্য পরিবর্তন আনতে হবে।’
নারীদের মনোনয়ন দিলে তা জয়ী হবে না, এমন প্রচলিত কথারও বিরোধীতা করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, ‘নমিনেশন দিলে কেউ পাস করবে, কেউ ফেল করবে এটা তার জনপ্রিয়তার ওপর নির্ভর করে। নারীদের নমিনেশন দিতে হবে।’
‘এটা গবেষণা করে সমাধান করতে পারব বলে মনে হয় না। মূল সমস্যা হচ্ছে নারীদেরকে মেইন স্ট্রিমের রাজনীতি নিয়ে আসতে না পারা। আমরা যদি নারীদেরকে মূলধারায় নিয়ে আসতে পারি তাহলে এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’
তিনি মনে করেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সচেতনভাবেই বেশি করে নারী সদস্যদের সুযোগ দেওয়া উচিত।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেন, ‘নারী আসনে একমাত্র সমাধান সরাসরি ভোটে সুযোগ দেওয়া। আমি বলছি না ১০০টা আসন দিতে হবে। কিন্তু এর সমাধান করতেই হবে।’
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে ফান্সের রাষ্ট্রদূত ম্যারি মাসদুপুই বলেন, ‘এই কমিশনে যেসব সুপারিশ এসেছে সেগুলোর কোনোটাই পরবর্তীতে সামনে আনা হলো না, এটা খুবই দুঃখজনক।’
সেমিনারে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন খান ফাউন্ডেশনের পরিচালক রোখসানা খন্দকার। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন আদি ওয়াকার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্ব ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক এবং প্রোগ্রাম সমন্বয়কারী নওশীন খান।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন, জেএসডির তানিয়া রব, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণফোরামের নেতা সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা মাহদি আমিনসহ অন্যরা।


