আন্দোলনের নামে তৈরি পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, অগ্নিসংযোগ ও সহিংসতা সৃষ্টির পেছনে আওয়ামী লীগের পলাতক নেতাকর্মীদের দায়ী করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, ভারতে অবস্থানরত হাসিনার নির্দেশনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের পলাতক নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের কাজীর দেউড়িতে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত র্যালির আগে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব অভিযোগ করেন রিজভী।
তিনি বলেন, দেশ যখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে উৎপাদন ও উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন তৈরি পোশাকশিল্পে আন্দোলনের নামে অস্থিরতা তৈরি করা হচ্ছে। পুলিশের গাড়ি ও পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়া হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের ছবি তুলতে গিয়ে তৌফিক নামে একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
রিজভীর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি নিয়ে সরকার কথা বলছে। মজুরি বোর্ডের বিষয়েও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত শ্রমিকেরা এখন আন্দোলনে নেই। তাহলে কারা আন্দোলন করছে, সেই প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, যারা দেশ ছেড়ে পালিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশে অবস্থান করছে, তাদের উসকানিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন, কারখানা বন্ধ করছেন এবং মানুষ হত্যা করছেন।
সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ১১ জনের সবাই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে দাবি করেন বিএনপির এই নেতা। তাদের মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সাংগঠনিক সম্পাদকও রয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। ওই নেতা নিজের ফেসবুকে আন্দোলনে থাকার কথা গর্বের সঙ্গে প্রচার করেছেন বলেও দাবি করেন রিজভী।
তিনি বলেন, তার মানে, এই মদ আসছে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। উসকানি আসছে পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে। তারা এই দেশকে শান্ত করতে চায় না, স্থিতিশীল করতে চায় না।
সমাবেশে বিএনপির পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীমসহ চট্টগ্রাম মহানগরীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


