হামের টিকা আমদানি ও নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখার ঘটনায় দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ রাখা এবং জরুরি টিকা আমদানি না করার পেছনে প্রশাসনিক অবহেলা ও দায়িত্বহীনতা ছিল। এসব অভিযোগ তদন্তে সরকার তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শাহবাগে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এক আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় দেশে হামের নজিরবিহীন প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৪ সালের শেষ বা ২০২৫ সালের শুরুতে জাতীয় টিকাদান ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও তৎকালীন সরকার তা আয়োজন করেনি। এমনকি মন্ত্রণালয়ে জরুরি ব্যবহারের জন্য টিকার মজুতও ছিল না।
তিনি বলেন, ‘কারা এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন সিদ্ধান্ত নিয়েছিল এবং কেন প্রয়োজনীয় টিকা আমদানি করা হয়নি, তা দেশবাসীর জানা জরুরি। আমরা দোষারোপের রাজনীতি করতে চাই না। তবে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলায় কোনো শিশুর জীবন যেন ঝরে না যায়, সে জন্য তদন্ত চলছে।’
টিকা সংকট মোকাবিলায় সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন উৎস থেকে টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। এক থেকে দুই মাসের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২০ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনা হয়েছে। এতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
এদিকে তরুণদের মধ্যে হৃদরোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান ও শরীরচর্চার অভাবে কম বয়সেই অনেকে হার্ট অ্যাটাকের শিকার হচ্ছেন। এতে পুরো পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
দূরদূরান্তের হৃদরোগীদের বাড়িতে বসে সাশ্রয়ী পুনর্বাসন ও মানসিক স্বাস্থ্যসেবা দিতে বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য ও পাকিস্তানের যৌথ উদ্যোগে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘অ্যাক্রস-বিডি’ গবেষণা প্রকল্প শুরু হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশের আটজন তরুণ চিকিৎসক ও গবেষক আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন।
অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যমের সক্রিয় ভূমিকার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
টিকা কেনা ও বিতরণে অনিয়ম তদন্তে কমিশন
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হামের টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিশন গঠন করেছে সরকার।
গত বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময়ের ঘটনাগুলো তদন্ত করবে কমিশন। গঠনের পর ৬০ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
হাইকোর্ট বিভাগের সাবেক বিচারপতি মামনুন রহমানকে কমিশনের সভাপতি করা হয়েছে। অন্য দুই সদস্য হলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সভাপতি অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ এন এম মঈনুল ইসলাম।
কমিশন টিকা কেনা ও বিতরণে বিলম্ব, অনিয়ম এবং প্রশাসনিক ব্যর্থতার কারণ অনুসন্ধান করবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় চিহ্নিত করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ দেবে।
তদন্তের প্রয়োজনে কমিশন দেশের যেকোনো স্থান পরিদর্শন করতে পারবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তলব ও জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষমতাও রয়েছে কমিশনের। স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ কমিশনকে সাচিবিক সহায়তা দেবে।


