বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ

বৃহস্পতিবার থেকে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে পর্যটকবাহী তিন জাহাজ
সেন্টমার্টিনের পর্যটকবাহী জাহাজ। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

নানা জটিলতা ও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে। সবকিছু ঠিক থাকলে প্রথম দিন থেকেই অনুমতি পাওয়া তিনটি জাহাজ পর্যায়ক্রমে দ্বীপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

জাহাজ তিনটি হলো—এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলি ও এমভি টেকনাফ। সরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসনের সম্মতিতে এসব জাহাজ চলাচলের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

সেন্টমার্টিনগামী জাহাজ মালিকদের সংগঠন সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (স্কোয়াব) সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘পর্যটকের সংখ্যা যতই হোক, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জাহাজ চলাচল শুরু করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সব অনুমোদন পাওয়া গেছে। এখন নিয়মিতভাবে পর্যটক পরিবহনের কার্যক্রম শুরু হবে।’

নৌ পরিবহন অধিদপ্তর ও পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন পাওয়া তিনটি জাহাজের মোট যাত্রী ধারণক্ষমতা ২ হাজার ২৯৮ জন। এর মধ্যে এমভি বার আউলিয়ার ধারণক্ষমতা ৮৫০ জন, এমভি কর্ণফুলির ৭৩২ জন এবং এমভি টেকনাফের ৭১৬ জন।

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া সময়সূচি অনুযায়ী, এমভি বার আউলিয়া সকাল ৭টায় কক্সবাজার শহরের বাঁকখালী নদীর নুনিয়ারছড়া ঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে। দ্বীপ থেকে ফিরবে বেলা আড়াইটায়। এমভি কর্ণফুলি সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করে ফিরবে বেলা ২টা ১৫ মিনিটে। আর এমভি টেকনাফ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে যাত্রা করে সেন্টমার্টিন থেকে ফিরবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।

আরও পড়ুন

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিন দ্বীপ পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করা হলেও নানা জটিলতায় এত দিন জাহাজ চলাচল শুরু করা সম্ভব হয়নি। সংশোধিত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ নভেম্বর থেকে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত সাড়ে চার মাস পর্যটকেরা দ্বীপে যাতায়াতের পাশাপাশি রাত্রিযাপনও করতে পারবেন।

তবে দ্বীপে ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রত্যেক পর্যটককে ১০০ টাকা পরিবেশ সংরক্ষণ ফি দিতে হবে। আগের মতোই ট্রাভেল পাস ও কিউআর কোডযুক্ত টিকিট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রতিদিন সর্বোচ্চ সাড়ে তিন হাজার পর্যটক দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পর্যটকদের জন্য বেশ কিছু বিধিনিষেধ বহাল রাখা হয়েছে। এসব বিধিনিষেধ অনুযায়ী, রাতে সমুদ্রসৈকত ও তৎসংলগ্ন এলাকায় আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ সৃষ্টি এবং বারবিকিউ পার্টির আয়োজন করা যাবে না। কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ এবং কেনাবেচাও নিষিদ্ধ।

এ ছাড়া সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, শামুক, ঝিনুক, তারামাছ, রাজকাঁকড়া, সামুদ্রিক ঘাস ও শৈবালসহ দ্বীপের জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না। সমুদ্রসৈকতে মোটরসাইকেল ও সি-বাইকের মতো যানবাহন চলাচলেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad