জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) আগামী ২৭ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘১৬তম প্রজাপতি মেলা-২০২৬’। দিনব্যাপী এ আয়োজনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষ ও করিডোর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মেলা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মো. মনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, এবারের মেলায়ও থাকছে নানা আয়োজন। তবে ক্যাম্পাসে প্রজাপতির প্রজাতির সংখ্যা কমে আসা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। প্রায় ১২ থেকে ১৩ বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় ১১০ প্রজাতির প্রজাপতি দেখা যেত। বর্তমানে এ সংখ্যা কমে প্রায় ৭০টিতে নেমেছে। প্রজাপতির বৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনতে নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে, যার কিছু ইতিবাচক প্রভাবও দেখা যাচ্ছে।
গত চার থেকে পাঁচ মাসে প্রজাপতির আবাসস্থল সংরক্ষণে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, এর মধ্যে রয়েছে প্রয়োজন অনুযায়ী ঝোপঝাড় ছাঁটাই, অতিরিক্ত গাছপালা না কাটা এবং ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ। পাশাপাশি প্রজাপতি সংরক্ষণে মানুষের সচেতনতাও বাড়ছে। এসব উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে প্রজাপতির প্রজাতির সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এবারের মেলায় নতুন আকর্ষণ হিসেবে প্রজাপতি নিয়ে একটি সচিত্র বই প্রকাশ করা হবে। বইটিতে প্রজাপতির জন্য উপযোগী উদ্ভিদ, শূককীট বা লার্ভার ছবি, প্রজাপতি শনাক্তকরণের পদ্ধতি এবং প্রজাপতি আকৃষ্ট করতে প্রয়োজনীয় গাছপালা সম্পর্কে তথ্য থাকবে।
এ বিষয়ে মনোয়ার হোসেন বলেন, যারা প্রজাপতির বাগান কিংবা ছাদবাগান গড়ে তুলতে চান, তাদের জন্য বইটিতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হবে। কীভাবে বাগানকে প্রজাপতির বসবাসের উপযোগী করে তোলা যায়, সে বিষয়টিও এতে তুলে ধরা হবে।
মেলায় পরিবেশ ও বন সংরক্ষণে কাজ করা বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে পরিবেশ বন্ধনের সেক্রেটারি, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক (সিসিএফ) এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টরসহ সহযোগী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নিয়মিত প্রজাপতি মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। প্রজাপতির বৈচিত্র্য তুলে ধরা এবং এদের সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শিশু-কিশোরসহ নানা বয়সের প্রকৃতিপ্রেমীরা মেলায় অংশ নিয়ে প্রজাপতির বৈচিত্র্যময় রূপ উপভোগ করেন।


