যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারের এ নির্বাচনে দেশটির কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) ও উচ্চকক্ষ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবেন ভোটাররা।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের সিনেটে অন্তত চারটি এবং প্রতিনিধি পরিষদে তিনটি আসন বাড়াতে হবে।
কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্পের মেয়াদের শেষ দুই বছরে তার নীতিগত কর্মসূচির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার সুযোগ পাবেন ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া রিপাবলিকানরা। এবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনের সব কটি এবং সিনেটের ১০০টি আসনের মধ্যে ৩৫টিতে ভোট হচ্ছে।
সিনেটের আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, মিশিগান, ওহাইও ও টেক্সাসের নির্বাচন ঘিরে বিশেষ নজর রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনগুলো ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে।
নির্বাচনী প্রচারে ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্পের কমে যাওয়া জনসমর্থন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে অসন্তোষ এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে ভোটারদের উদ্বেগকে গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা সামাজিক ইস্যুগুলোকে সামনে এনেছে। তবে মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প নিজেই হয়ে উঠেছেন অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয়।
কখন জানা যাবে ফল
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলের কয়েকটি এলাকায় ভোটকেন্দ্র বন্ধ হতে শুরু করবে। বাংলাদেশ সময় অনুযায়ী, বুধবার ভোর ৫টা থেকে প্রাথমিক ফল আসতে পারে। তবে সব আসনের চূড়ান্ত ফল জানতে কয়েক দিনও লেগে যেতে পারে।
নির্বাচন কর্মকর্তারা ব্যালট যাচাই ও গণনার সঙ্গে সঙ্গে ফল প্রকাশ করেন। এরপর নির্বাচনী বিশ্লেষকেরা বিভিন্ন তথ্য পর্যালোচনা করে কোনো প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করেন। ফলে প্রাথমিক ভোটের হিসাব প্রকাশিত হলেই কোনো আসনের বিজয়ী নিশ্চিত হয়ে যায় না।
যেসব আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে, সেগুলোর ফল ঘোষণা করতে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিন পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। বিশেষ করে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ আসনগুলোর ফল পেতে অপেক্ষা করতে হতে পারে।
আলাস্কার সিনেট নির্বাচনে র্যাঙ্কড-চয়েস ভোট গণনার প্রয়োজন হলে পরবর্তী দফার গণনা ১৮ নভেম্বর নির্ধারিত রয়েছে। ফলে ওই আসনের চূড়ান্ত ফল আসতে আরও বেশি অপেক্ষা করতে হতে পারে।
সব আসনের ফল জানার জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। ব্যবধান বেশি থাকলে সব ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই সংবাদমাধ্যম বিজয়ী ঘোষণা করতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক ফলের সত্যায়ন বা সার্টিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে আরও সময় লাগে। ২০২৪ সালের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত হতে আট দিন লেগেছিল।
কোনো আসনে ভোটের ব্যবধান খুব কম হলে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের আইন অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পুনর্গণনা হতে পারে। আবার কোনো প্রার্থীও পুনর্গণনার আবেদন করতে পারেন। নির্বাচনের ফল নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর সুযোগও রয়েছে। এসব প্রক্রিয়ায় চূড়ান্ত ফল প্রকাশে কয়েক দিন, সপ্তাহ, এমনকি আরও বেশি সময় লাগতে পারে।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। চূড়ান্ত ফল মেনে নেবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হলে আমি মেনে নেব।’
তবে কংগ্রেস নির্বাচনের ফল নিয়ে অসন্তুষ্ট হলেই তা বাতিল করার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের নেই। যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন পরিচালনা ও ফলের আনুষ্ঠানিক সত্যায়নের দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর। এ বিষয়ে কোনো আইনি চ্যালেঞ্জ উঠলে তা নির্ধারিত বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নিষ্পত্তি করতে হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, নিজ নিজ কক্ষের সদস্যদের নির্বাচনসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে চূড়ান্ত কর্তৃত্ব প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের হাতে। ফলে নির্বাচনের ফল নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তি হতে আরও সময় লাগতে পারে।


